1. news@gmail.com : news :

ঋণের চাপে সংকটে আইসিবি, ঘুরে দাঁড়ানোর মহাপরিকল্পনা

  • Update Time : Friday, October 2, 2026
আইসিবি

দেশের শিল্প অর্থায়ন ও মিউচুয়াল ফান্ড খাতের অন্যতম পথিকৃৎ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) ৫০ বছর পূর্ণ করেছে। তবে অর্ধশতকের এই সময়ে এসে প্রতিষ্ঠানটি বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছে। ক্রমবর্ধমান ঋণ, সুদ ব্যয় ও শেয়ারবাজারের দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতায় লোকসানের ভারে নাজুক হয়ে পড়েছে আইসিবির আর্থিক অবস্থা।

এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে একটি পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তারল্য সংকট কমানো, ঋণ পুনর্গঠন এবং আর্থিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করাই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য। আইসিবির সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে এ রোডম্যাপ প্রকাশ করা হয়।

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এবং শেয়ারবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

একসময় লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত আইসিবি সরকারের কোষাগারেও উল্লেখযোগ্য অবদান রাখত। কিন্তু দীর্ঘদিনের পুঁজিবাজারের অস্থিরতায় প্রতিষ্ঠানটির আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। শেয়ারবাজারে মূলধনি মুনাফা ও লভ্যাংশ আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় আর্থিক পরিস্থিতির ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

আইসিবির আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির সঞ্চিত লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬০৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০২৪-২৫ অর্থবছরেই রেকর্ড ১ হাজার ২১৩ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে আরও ৫৮৮ কোটি টাকা লোকসান করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

তথ্য অনুযায়ী, ২০১০-১১ অর্থবছরের তুলনায় আইসিবির ব্যাংকঋণ প্রায় ছয় গুণ বেড়েছে। ওই অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির বকেয়া ঋণের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৩৪১ কোটি টাকা। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর নাগাদ তা বেড়ে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

একই সময়ে ঋণের সুদ পরিশোধের বার্ষিক ব্যয়ও প্রায় পাঁচ গুণ বেড়েছে। ২০১০-১১ অর্থবছরে সুদ বাবদ যেখানে ১৮৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছিল, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর নাগাদ সেই ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১০১ কোটি টাকা।

শুধু ঋণের চাপই নয়, আইসিবির বিনিয়োগ পোর্টফোলিওতেও বড় ধরনের মূল্যহ্রাস হয়েছে। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির বিনিয়োগে অবাস্তবায়িত লোকসানের পরিমাণ ছিল প্রায় ৫ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা। এর ফলে আইসিবির পোর্টফোলিওর মূল্য কমে প্রায় ৮ হাজার ৬০০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

এ অবস্থায় আর্থিক চাপ সামাল দিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে পুনরায় শক্তিশালী করতে ধাপে ধাপে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তারল্য ব্যবস্থাপনা, ঋণের বোঝা কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক সক্ষমতা ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে আইসিবিকে পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন

প্রযুক্তি সহায়তায়: Star Web Host It