1. news@gmail.com : news :

মূলধনি মুনাফায় পূর্ণ কর অব্যাহতি চায় ডিবিএ

  • Update Time : Wednesday, November 4, 2026

দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানো ও লেনদেন বাড়াতে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজ থেকে অর্জিত মূলধনি মুনাফার ওপর পূর্ণ কর অব্যাহতির প্রস্তাব দিয়েছে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)। সংগঠনটি ২০৩০ সাল পর্যন্ত ব্যক্তি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের এ সুবিধা দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) ডিবিএর পক্ষ থেকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর শাহরিয়ার গনি, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আহসান হাবিবের কাছে এ বিষয়ে একটি প্রস্তাবনা জমা দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে ব্যক্তি বিনিয়োগকারীরা তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজ থেকে অর্জিত মূলধনি মুনাফার ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত কর অব্যাহতি পান। এর বেশি মুনাফার ক্ষেত্রে সাধারণত ১৫ শতাংশ কর দিতে হয়। ডিবিএ এই সীমা তুলে দিয়ে ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের জন্য পূর্ণ কর অব্যাহতি পুনর্বহালের প্রস্তাব করেছে। পাশাপাশি বিদেশি ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের করব্যবস্থা পুনর্বিবেচনার কথাও বলেছে সংগঠনটি।

ডিবিএর মতে, এ ধরনের কর সুবিধা চালু হলে পুঁজিবাজারে লেনদেন বাড়বে এবং বিনিয়োগকারীরা অর্জিত মুনাফা পুনরায় বিনিয়োগে উৎসাহিত হবেন। এতে দেশীয় সঞ্চয়ের উৎপাদনশীল ব্যবহার বাড়ার পাশাপাশি তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ইকুইটি অর্থায়নের সুযোগও সম্প্রসারিত হতে পারে।

প্রস্তাবনায় আয়কর আইন, ২০২৩-এর সংশ্লিষ্ট বিধান সংশোধনের কথা বলা হয়েছে। ডিবিএর প্রস্তাব অনুযায়ী, স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে সম্পন্ন এবং নির্ধারিত কেন্দ্রীয় ডিপোজিটরি ব্যবস্থায় নিষ্পত্তি হওয়া যোগ্য লেনদেন থেকে অর্জিত মূলধনি মুনাফা করমুক্ত রাখা যেতে পারে। তবে স্পনসর, পরিচালক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে বিদ্যমান করব্যবস্থা বহাল রাখার পক্ষে মত দিয়েছে সংগঠনটি।

এ ছাড়া সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি অব বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিসিবিএল) পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হলে মূলধনি মুনাফা নিরূপণ ও কর হিসাবের প্রক্রিয়া সহজ হবে বলে মনে করছে ডিবিএ। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটির পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু হওয়া পর্যন্ত, অর্থাৎ ২০৩০ সাল পর্যন্ত কর অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব করেছে সংগঠনটি।

ডিবিএর প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম বলেন, ব্যক্তি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিনিয়োগবান্ধব করব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে পুঁজিবাজারে আস্থা ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ বাড়বে। একই সঙ্গে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারিত হবে। সরকারের পুঁজিবাজার উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নেও এ উদ্যোগ সহায়ক হতে পারে।

প্রস্তাবটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও আইনগত পদক্ষেপ নিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ডিবিএ। পুঁজিবাজারের উন্নয়নে সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছে সংগঠনটি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন

প্রযুক্তি সহায়তায়: Star Web Host It