1. news@gmail.com : news :

৩০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

  • Update Time : Saturday, November 7, 2026

প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিশুদের শিখন ঘাটতি পূরণে বাংলাদেশকে ৩০ কোটি (৩০০ মিলিয়ন) ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। এ অর্থ দিয়ে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ২ কোটি ৬০ লাখ শিশুর পড়াশোনার মান উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এ ছাড়া শিশুদের পড়া, লেখা ও গণিতের মৌলিক দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়তা দেওয়া হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ‘দ্য লার্নিং এনহ্যান্সমেন্ট অ্যান্ড অ্যাকসেলারেশন ইন প্রাইমারি এডুকেশন প্রোগ্রাম’ শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় এ অর্থায়নের অনুমোদন দিয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে এই অর্থ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং বিদ্যালয় পরিচালনায় দক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষায় প্রায় সর্বজনীন প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হলেও শিক্ষার মান এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১০ বছর বয়সী শিশুদের প্রায় ৫০ শতাংশই বয়স ও শ্রেণি অনুযায়ী উপযোগী একটি সাধারণ লেখা পড়ে তার অর্থ বুঝতে পারে না। তুলনায় উচ্চমধ্যম আয়ের দেশ মালয়েশিয়ায় এ হার ৪২ শতাংশ এবং ব্রাজিলে ৪৭ শতাংশ।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের বিভাগীয় পরিচালক জ্যঁ পেসমে বলেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম কর্মশক্তি গড়ে তোলার অন্যতম ভিত্তি হলো মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা। গত দুই দশকে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশে প্রায় সব শিশুর বিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরিতে সহায়তা করেছে। নতুন অর্থায়নের মাধ্যমে শিশুরা যাতে আরও ভালোভাবে শিখতে পারে এবং বিদ্যালয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যায়, তা নিশ্চিত করা হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে তাদের ভালো কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

বিশ্বব্যাংকের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বেসরকারি ও এনজিও পরিচালিত বিদ্যালয়, কিন্ডারগার্টেন এবং মাদ্রাসা মিলিয়ে এ পর্যায়ে ২ কোটির বেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। নতুন কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের মৌলিক সাক্ষরতা ও গণিতের দক্ষতা বাড়াতে বিশেষ শিক্ষা প্যাকেজ চালু করা হবে। এতে পাঠদানের উপকরণ, নির্ধারিত পাঠ পরিকল্পনা এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি দেশের ৯০ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের নেতৃত্ব ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বিদ্যালয় পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী করা হবে। যেসব শিশু পড়াশোনায় পিছিয়ে রয়েছে, তাদের জন্য বিশেষ প্রতিকারমূলক শিক্ষা বা অতিরিক্ত পাঠদানের ব্যবস্থা রাখা হবে। বিশেষ করে যেসব জেলার শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে রয়েছে, সেসব এলাকায় এ কর্মসূচির ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।

বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও কর্মসূচির দলনেতা তাসমিনা রহমান বলেন, ভালো কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের প্রথম ধাপ হলো শিক্ষার মৌলিক ভিত্তি শক্তিশালী করা। কোনও শিশু যাতে পিছিয়ে না থাকে, সে লক্ষ্যেই এ কর্মসূচিতে বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের নেতৃত্বের মান উন্নয়ন, বরাদ্দ করা অর্থের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে তথ্যের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ কর্মসূচির আওতায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে, যাতে তারা শ্রেণিকক্ষে আরও কার্যকরভাবে পড়া, লেখা ও গণিত শেখাতে পারেন। একইসঙ্গে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নের মাধ্যমে শিশুদের বিদ্যালয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি ও শেখার সক্ষমতা বাড়ানো হবে।

বিশ্বব্যাংকের প্রত্যাশা, এ কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৮ লাখ ৪৩ হাজার নতুন ও তুলনামূলক ভালো বেতনের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ) এ অর্থায়ন দিচ্ছে। সংস্থাটি স্বল্প আয়ের দেশগুলোকে সহজ শর্তে ঋণ ও অনুদান দিয়ে থাকে। এ ঋণের মেয়াদ ২৫ বছর। এর মধ্যে প্রথম পাঁচ বছর ঋণ পরিশোধে ছাড় থাকবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন

প্রযুক্তি সহায়তায়: Star Web Host It