সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে দেশের বিভিন্ন স্থানে আজ বুধবার (২৭ মে) পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে। ভৌগোলিক কারণ ও ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতে প্রতি বছরের মতো এবারও নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ ও ভোলার বিভিন্ন গ্রামের মানুষ একদিন আগেই ঈদের আনন্দে মেতে উঠেছেন।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার ২৩টি গ্রামের বাসিন্দারা সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদুল আজহা উদযাপন করছেন। উপজেলার বিভিন্ন ঈদগাহ ও মসজিদে মুসল্লিদের উপস্থিতিতে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলা বাজার এলাকার গিরদাইন পশ্চিমপাড়া, নয়াপুর, গনকবাড়ী, গজারিয়া পাড়া ও কোনাবাড়াসহ মোট ২৩টি গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও দুই ঈদ পালন করে আসছেন।
আজ সকাল ৮টায় গিরদাইন পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদে প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি খন্দকার রিয়াজউদ্দীন মাস্টার জানান, “দীর্ঘ বছর ধরে আমরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদ পালন করছি। মুসল্লিদের নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশে নামাজ আদায়ের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।”
এছাড়া সকাল সাড়ে ৮টায় নয়াপুর, গনকবাড়ী, গজারিয়া পাড়া ও কোনাবাড়া এলাকার বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে পৃথক জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
নয়াপুর গ্রামের জামে মসজিদের ইমাম কামরুজ্জামান বলেন, “ধর্মীয় বিশ্বাস ও অনুশাসনের ভিত্তিতে আমাদের এলাকার প্রায় ২০টি পরিবার প্রতিবছর সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদ উদযাপন করে।”
অন্যদিকে ভোলার সাতটি উপজেলার অন্তত ১০টি গ্রামে বিভিন্ন দরবারের প্রায় ১০ হাজার অনুসারী আজ ঈদুল আজহা উদযাপন করছেন। এসব উপজেলার মধ্যে রয়েছে ভোলা সদর, দৌলতখান, বোরহানউদ্দিন, তজুমুদ্দিন, লালমোহন, চরফ্যাশন ও মনপুরা।
সাতকানিয়া মির্জাখালী দরবার, সুরেশ্বর দরবার শরীফ, মাইজভান্ডার, আটরশি ও দুদুমিয়া দরবারের অনুসারীরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করছেন।
আজ সকাল সাড়ে ৭টায় বোরহানউদ্দিন উপজেলার মনিরাম গ্রামের মজনু মিয়া বাড়ির দরজায় মসজিদ প্রাঙ্গণে জেলার সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জামাতে ইমামতি করেন মাওলানা সিহাব উদ্দিন।
মনিরাম সুরেশ্বর দরবারের প্রাক্তন খলিফার ছেলে রাসেদুল ইসলাম বলেন, “আমরা একদিন আগে রোজা বা ঈদ পালন করি বিষয়টি এমন নয়। ভৌগোলিক কারণে চাঁদ দেখার ভিত্তিতেই আমরা ঈদ উদযাপন করি।”
এছাড়া সকাল সাড়ে ৮টায় বোরহানউদ্দিনের মুলাইপত্তন গ্রামের পঞ্চায়েত বাড়ির মসজিদ প্রাঙ্গণে আরেকটি বড় জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন মাওলানা রতন মিয়া।
এছাড়াও মাদারীপুর, পটুয়াখালী ও ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন গ্রামে ঈদুল আজহা উদযাপনের খবর পাওয়া গেছে।
নামাজ শেষে ধর্মীয় নিয়ম অনুযায়ী পশু কোরবানি ও আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন মুসল্লিরা।
প্রযুক্তি সহায়তায়: Star Web Host It
Leave a Reply