1. news@gmail.com : news :

মার্জিন বিধিমালা সংশোধন নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করল বিএসইসি

  • Update Time : Thursday, July 16, 2026
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানে আজ রোববার (২ মার্চ) আগারগাঁওয়ে বিএসইসি কার্যালয়ে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানকালে দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম বিএসইসি থেকে আইপিও অনুমোদন সংক্রান্ত বিষয়ে কোম্পানির আবেদনের তালিকা, তাদের দাখিল করা প্রসপেক্টাস, নিরীক্ষা প্রতিবেদন ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য নথিপত্র এবং চূড়ান্ত অনুমোদন তালিকা যাচাই করে। একইসঙ্গে দুদকের আরেকটি দল বিএসইসিতে বেক্সিমকোর সুকুক ও আইএফআইসি আমার বন্ড এর ব্যাপারে তথ্য ও নথিপত্র সংগ্রহ করতে যায়। এগুলো কারাগারে থাকা শেখ হাসিনার সাবেক বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের সাথে সংশ্লিষ্ট। দুদকের জনসংযোগ দপ্তর জানায়, প্রাথমিক পর্যালোচনায় দেখা যায় যে কোম্পানি কর্তৃক দাখিল করা বানোয়াট উপার্জন এবং সম্পদ বিবরণী ও উইন্ডো ড্রেসিংয়ের মাধ্যমে তৈরি করা ব্যালেন্স শিটের বিপরীতে আইপিও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে অনেকক্ষেত্রে ডিএসইর সুপারিশ ও পর্যবেক্ষণ বিবেচনা করা হয়নি, যা ব্যাপক অনিয়মের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছে। এছাড়া প্রাইভেট প্লেসমেন্ট জালিয়াতি ও বাণিজ্য, অধিকমূল্যে শেয়ার প্রাইস নিয়ে মার্কেটে প্রবেশ ও অল্প সময়ে শেয়ার বিক্রি, প্রাইসের দ্রুত অবনমনের পরিপ্রেক্ষিতে বিএসইসি যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি বলে জানায় দুদক। দুর্বল কোম্পানিগুলোকে অবৈধভাবে অনুমোদন দেওয়ায় শেয়ারবাজারে প্রবেশের অল্পদিনেই তাদেরকে নিম্ন কর্মক্ষমতা কোম্পানি হিসেবে ‘জেড’ ক্যাটাগরিভুক্ত করা হয়েছে। সংস্থাটি আরও জানায়, জালিয়াতির মাধ্যমে চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ড কর্তৃক প্রস্তুত করা উইন্ডো ব্যালেন্স শিট ও বানোয়াট উপার্জন রিপোর্টের ভিত্তিতে আইপিও অনুমোদন করা হয়। এছাড়া ইস্যু ম্যানেজারের তৈরি করা অধিমূল্যায়িত কোম্পানি প্রোফাইলের পরিপ্রেক্ষিতে অনিয়মের আশ্রয়ে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন কর্তৃক আইপিওর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়। দুদক জানায়, অভিযানকালে পাওয়া অনিয়মগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে কমিশন বরাবর পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করবে তাদের এনফোর্সমেন্ট টিম। উল্লেখ, পতিত আওয়ামীলীগ সরকারের ১৫ বছরের শাসনামলে দেশের পুঁজিবাজারে পরিকল্পিতভাবে লুটপাট করা হয় বলে আভিযোগ আছে। এ সময়ে অনেক দুর্বল মৌলের কোম্পানি, এমনকি উৎপাদন বন্ধ থাকা কোম্পানিকে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে বাজার থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা তুলে নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়। অন্যদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান একাই বেক্সিমকো গ্রীন সুকুক ও আমার বন্ড নামের বন্ড ইস্যু করে প্রায় ৫ হাজার টাকা বাজার থেকে উঠিয়ে নেন। এছাড়া নানা ধরনের কারসাজির মাধ্যমে একটি চক্র সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলেও অভিযোগ আছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির প্রশ্রয় ও যোগসাজসেই এমন লাগামহীন অনিয়ম-দুর্ণীতি হয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এসব এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতেই আজ দুদক বিএসইসিতে এই অভিযান চালিয়েছে।

পুঁজিবাজারে প্রস্তাবিত ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মার্জিন) বিধিমালা, ২০২৫’ সংশোধন নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনকে ‘অসম্পূর্ণ, বিভ্রান্তিকর ও বাস্তবতাবিবর্জিত’ বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। একই সঙ্গে কমিশন জানিয়েছে, সংশোধিত খসড়া বিধিমালা এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং জনমত যাচাইয়ের পরই এটি চূড়ান্ত করা হবে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিএসইসি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিএসইসির ১০২০তম কমিশন সভায় ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মার্জিন) বিধিমালা, ২০২৫’-এর সংশোধন প্রস্তাবের (খসড়া) অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে খসড়াটি জনমতের জন্য প্রকাশের আগেই বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ বিষয়ে অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশিত হচ্ছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অযাচিত বিভ্রান্তির সৃষ্টি করতে পারে।

কমিশন জানায়, প্রস্তাবিত সংশোধনের মূল উদ্দেশ্য হলো বিদ্যমান মার্জিন বিধিমালা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দেখা দেওয়া ব্যবহারিক ও কার্যগত জটিলতা দূর করা, বিধিমালাকে আরও সহজ, কার্যকর ও বাস্তবসম্মত করা এবং বাজারসংশ্লিষ্ট অংশীজনদের জন্য এর প্রয়োগ আরও সুবিধাজনক করা।

বিএসইসি আরও জানায়, সংশোধনী প্রস্তাব প্রণয়নের সময় মার্জিন সুবিধা ব্যবহারকারী, স্টক ব্রোকার, মার্চেন্ট ব্যাংক, বাজার মধ্যস্থতাকারী এবং অন্যান্য অংশীজনের মতামত ও বাস্তব অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কমিশনের লক্ষ্য একটি কার্যকর, বাস্তবমুখী ও বিনিয়োগকারী-সহায়ক মার্জিন ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তোলা।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংশোধিত খসড়া বিধিমালাটি খুব শিগগিরই জাতীয় দৈনিক পত্রিকা এবং কমিশনের ওয়েবসাইটে জনমত যাচাইয়ের জন্য প্রকাশ করা হবে। অংশীজন ও সাধারণ জনগণের মতামত গ্রহণের পর প্রয়োজনীয় পর্যালোচনা শেষে বিধিমালার সংশোধনী চূড়ান্ত করা হবে।

এ কারণে জনমত যাচাইয়ের আগেই অনুমাননির্ভর বা আংশিক তথ্য প্রকাশ করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে আহ্বান জানিয়েছে বিএসইসি।

কমিশন আরও উল্লেখ করেছে, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ও সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই মার্জিন বিধিমালার সংশোধন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন



সর্বশেষ :
স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংক-এর বাংলা কিউআর ও ক্যাশলেস ডিজিটাল ব্যাংকিং ক্যাম্পেইন উদ্বোধন টেকসই উন্নয়নে ৫০০০ কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিলে যুক্ত হলো মার্কেন্টাইল ব্যাংক মূল্যস্ফীতি রোধে ১০০০ টাকার নোট বাতিল চেয়ে আইনি নোটিশ পুঁজিবাজার আধুনিকায়নে নতুন ওয়েবসাইট চালু করল ডিএসই AA Credit Rating of Southeast Bank PLC. বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে অংশগ্রহণ চুক্তি স্বাক্ষর করল ডাচ্-বাংলা ব্যাংক সূচকের উত্থানে চলছে লেনদেন বাংলাদেশ ব্যাংকের তিনটি পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে যমুনা ব্যাংকের অংশগ্রহণ জ্বালানির দাম দক্ষিণ এশিয়ার কোন দেশে কত? বাংলাদেশ ব্যাংকের দুই পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে পূবালী ব্যাংকের অংশগ্রহণ

প্রযুক্তি সহায়তায়: Star Web Host It