সোমবার (২ নভেম্বর) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট পলিসি ইনস্টিটিউট (এসডিপিআই) আয়োজিত ২৯তম টেকসই উন্নয়ন সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি এ প্রস্তাব দেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
তিতুমীর বলেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সহযোগিতা এ অঞ্চলের জন্য নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে। দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোকে যুক্ত করে একটি সমন্বিত উৎপাদন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা সম্ভব।
এ লক্ষ্য অর্জনে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে এমন বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে হবে, যা স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তর ও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে ব্যয় জিডিপির বর্তমান প্রায় ২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে শক্তিশালী উৎপাদন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে কাজ করছে বাংলাদেশ। বৈশ্বিক উৎপাদনব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব কাটিয়ে স্বাভাবিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে আঞ্চলিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবিলা ও সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন তিতুমীর। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে অর্থনৈতিক সংকট ও দারিদ্র্য মোকাবিলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যুদ্ধ, জ্বালানি সংকট এবং বিগত সরকারের সময়ে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাব কাটিয়ে উঠতেও এসব কর্মসূচি ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পাকিস্তানের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বিশেষ উদ্যোগবিষয়ক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অধ্যাপক আহসান ইকবাল। চার দিনব্যাপী এ সম্মেলনে প্রায় ৫০টি প্যানেল ও পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে বিভিন্ন দেশের তিন শতাধিক উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ, রাজনীতিবিদ ও সামাজিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তি অংশ নিচ্ছেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে শতাধিক নারী রয়েছেন।
সম্মেলনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি ইসলামাবাদে নবনির্মিত বাংলাদেশ চ্যান্সেরি কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। সেখানে তিনি হাইকমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং চ্যান্সেরি প্রাঙ্গণে একটি জামগাছের চারা রোপণ করেন।
এ ছাড়া পাকিস্তানের অর্থ ও রাজস্ববিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী সিনেটর মোহাম্মদ আওরঙ্গজেব, পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বিশেষ উদ্যোগবিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী অধ্যাপক আহসান ইকবাল, জ্বালানিবিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী আলী পারভেজ মালিক এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও উৎপাদনবিষয়ক উপদেষ্টা হারুন আখতার খানের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন তিনি।
বৈঠকগুলোতে বিভিন্ন খাতে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।









Leave a Reply