গত বুধবার চীন সীমান্তের কাছে একটি হিমবাহ ধসে বরফ ও পাথরের বিশাল স্তূপ নেমে আসার পর আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। এতে নেপালের রাসুয়াসহ মধ্যাঞ্চলের বেশ কয়েকটি এলাকা ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
দুর্যোগের পর নতুন করে বন্যার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। এ কারণে ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী এলাকার বাসিন্দা এবং উদ্ধারকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতির অবনতি হলে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি রাখতেও বলা হয়েছে।
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, পর্যটক ও বিদেশি কর্মীসহ ৫৮৯ জন বিদেশি নাগরিক এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। নেপালি ও বিদেশি নাগরিক মিলিয়ে মোট ৭৫৩ জন পর্যটকেরও সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজ পর্যটকদের মধ্যে ১৮৩ জন ভারতীয় নাগরিক।
এদিকে চীনে গত বুধবারের ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে এ তথ্য জানায়। একই সময়ে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা কমে ৫৪৬ জনে দাঁড়িয়েছে।
রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে চীনা কর্তৃপক্ষ জানায়, নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক। তাদের মধ্যে ১৮ জন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। এর আগে দেশটিতে বন্যায় সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছিল। পরে সেই সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে পৌঁছায়। একইভাবে নিখোঁজের সংখ্যা আগে ৫৫৪ জন বলা হলেও পরে তা কমে ৫৪৬ জনে দাঁড়িয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নেপালে এখন পর্যন্ত ৮৮ জন ভারতীয় নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও ২৮৭ জন ভারতীয় নিখোঁজ রয়েছেন। শনিবার একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত আরও চার ভারতীয় নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে।
মরদেহ শনাক্ত করার কাজে সহায়তার জন্য ভারতের ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল ডিএনএ নমুনা বিশ্লেষণে সহযোগিতা করতে রোববার কাঠমান্ডুতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
তবে উদ্ধার অভিযান ও নিখোঁজদের সন্ধান অব্যাহত থাকায় হতাহত ও নিখোঁজের বর্তমান সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
প্রযুক্তি সহায়তায়: Star Web Host It
Leave a Reply