1. news@gmail.com : news :

পুঁজিবাজারে প্রস্তাবিত মার্জিন বিধিমালাঃ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ, বাজারের স্থিতিশীলতা ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন

  • Update Time : Tuesday, July 21, 2026

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সম্প্রতি “বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মার্জিন) বিধিমালা-২০২৫” এর খসড়া সংশোধনী প্রকাশ করেছে এবং এ বিষয়ে অংশীজনদের মতামত আহ্বান  করেছে। জনমত গ্রহণ একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে খসড়া সংশোধনীর কিছু প্রস্তাব ইতোমধ্যেই বাজারে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে, বিশেষ করে সাধারন বিমা খাতে। ফলে খসড়ার কয়েকটি বিষয় নতুন করে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে।

TTM EPS কি অধিক বাস্তবসম্মত নয়?

খসড়ায় সর্বশেষ নীরিক্ষিত বার্ষিক ঊচঝ-কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বর্তমান বাজার বাস্তবতায় একটি কোম্পানির সাম্প্রতিক আর্থিক অবস্থার যথার্থ প্রতিফলন পাওয়া যায় Trailing Twelve Months (TTM) EPS-এ। শুধুমাত্র সর্বশেষ বার্ষিক EPS বিবেচনা করলে অনেক কোম্পানির প্রকৃত আর্থিক অবস্থার প্রতিফলন ঘটেনা এবং বাজারের স্বাভাবিক চৎরপব উরংপড়াবৎু প্রক্রিয়াও ব্যাহত হতে পারে। তাই TTM EPS -কে মার্জিন সুবিধা নির্ধারণের ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা অধিকতর যৌক্তিক।

সাধারন বিমা খাতের প্রতি বৈষম্য কেন?

খসড়ায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য বুক ভ্যালুর তিন গুণ পর্যন্ত মার্জিন সুবিধা রাখা হলেও সাধারন বিমা কোম্পানির ক্ষেত্রে তা মাত্র এক গুণ নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, এই বৈষ্যম্যের পেছনে কি তথ্যভিত্তিক যুক্তি রয়েছে? যদি কোন খাতকে অন্য খাতের তুলনায় ভিন্নভাবে বিবেচনা করা হয়, তবে তার পক্ষে একটি Risk Assessment, Regulatory Impact Assessment (RIA) অথবা অন্য কোন তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ থাকা উচিত। খসড়ায় এমন কোন ব্যাখ্যা উপস্থাপিত হয়নি। ফলে এই বৈষম্য বাজারে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

লাইফ ইন্সুরেন্স ও SME কোম্পানির বিষয়েও পূনর্বিবেচনা প্রয়োজন

লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান মার্জিন অনুপাত বহাল রাখলে বিধিমালা সহজীকরণের লক্ষ্য পূরণ হবে না। একইভাবে SME বোর্ডের সব কোম্পানিকে একযোগে মার্জিন সুবিধার বাইরে রাখার পরিবর্তে আর্থিক সক্ষমতা, কর্পোরেট গভর্নেন্স, TTM EPS এর তারল্যের ভিত্তিতে যোগ্য কোম্পানিগুলোকে শর্তসাপেক্ষে মার্জিন সুবিধা দেওয়া যেতে পারে।

খসড়া প্রকাশের সময় নিয়েও প্রশ্ন

এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত খসড়া লেনদেন চলাকালীন প্রকাশ করায় বাজারে তাৎক্ষনিক অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। অনেক বিরিয়োগকারী অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন। এর ফলে বাজারের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে এবং Information Asymmetry সৃষ্টি হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত বাজার বন্ধ হওয়ার পর প্রকাশ করা হলে অপ্রয়োজনীয় অস্থিরতা অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব হবে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় Forced Sale -এর ঝুকি

খসড়া সংশোধনী প্রকাশের পর থেকেই সাধারন বিমা কোম্পানির শেয়ারসমূহে উল্লেখযোগ্য বিক্রির চাপ ও মূল্যপতন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যদি এই পরিস্থিতি মতামত গ্রহণের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে, তাহলে বহু মার্জিন বিনিয়োগকারীর শেয়ার ঋড়ৎপবফ ঝধষব-এর আওতায় চলে যেতে পারে।

এখানেই সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি উঠে আসে।

যদি পরবর্তীতে কমিশন অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে খসড়া সংশোধন করে, তাহলে ইতোমধ্যে ঋড়ৎপবফ ঝধষব-এর মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্থ বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি কিভাবে পূরণ হবে? এই ক্ষতি একবার হয়ে গেলে তা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে এমন কোন পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়া উচিত নয়, যাতে বিনিয়োগকারীরা অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হন।

জনমত গ্রহণ কি কেবল আনুষ্ঠানিকতা?

কোন খসড়া বিধিমালার উপর জনমত আহ্বানের উদ্দেশ্য হলো অংশীজনদের মতামত বিবেচনা করে একটি উন্নত ও ভারসম্যপূর্ণ নীতিমালা প্রণয়ন করা। কিন্তু যদি মতামত গ্রহণ চলাকালীন সময়েই বাজারে বড় ধরনের মূল্যপতন ঘটে, Forced Sale হয় এবং বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্থ হন, তাহলে জনমত গ্রহণের কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন থেকে যায়।

আরও অংশগ্রহণমূলক নীতিনির্ধারণ প্রয়োজন

বর্তমান খসড়া প্রণয়নের ক্ষেত্রে বাজারের সকল অংশীজনদের মতামত কতটা প্রতিফলিত হয়েছে, তা নিয়েও আলোচনা রয়েছে। শুধু একটি বা দুটি গোষ্ঠীর মতামতের পরিবর্তে বিনিয়োগকারীর প্রতিনিধি, মার্চেন্ট ব্যাংক, এসেট ম্যানেজমমেন্ট কোম্পানি, তালিকাভুক্ত কোম্পানি, বিমা খাত, গবেষক এবং বাজার বিশ্লেষকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হলে নীতিমালাটি আরও ভারসম্মপূর্ণ হতে পারত। এ কারনেই খসড়া চুড়ান্ত করার আগে একটি Public Hearing অথবা Stakeholder Consultation Meeting আয়োজন সমযোপযোগী উদ্যোগ হতে পারে।

উপসংহার

বাংলাদেশের পুঁজিবাজার দীর্ঘদিন ধরে আস্থা সংকট ও তারল্য সংকটের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। এ সময়ে যেকোন নীতিগত পরিবর্তনের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করা এবং সকল খাতের জন্য সমান ও ন্যয়সঙ্গত নীতি নিশ্চিত করা।

আশা করা যায় যে, কমিশন অংশীজনদের মতামত গুরুতের সাথে বিবেচনা করে খসড়া সংশোধনী পূনর্বিবেচনা করবে এবং এমন একটি মার্জিন বিধিমালা প্রণয়ন করবে, যা একদিকে বাজারে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে, অন্যদিকে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থও যথাযথভাবে সংরক্ষণ করবে।

লেখক:

কে. বি. এম. মঈন উদ্দিন চিশতী

সাবেক চেয়ারম্যান, ইসলামিক ফাইন্যান্স এন্ড ইনভেস্টমেন্ট পিএলসি.

প্রেসিডেন্ট, ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন



সর্বশেষ :
সিএসই-৩০ ইনডেক্সে যুক্ত হলো ৪ নতুন কোম্পানি, বাদ পড়ল ৪টি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে ধাপে ধাপে প্রশাসক সরাবে বাংলাদেশ ব্যাংক যে কারণে ফের আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হলেন বদিউর রহমান বিএফটিআইকে শক্তিশালী থিংক ট্যাংক হিসেবে গড়ে তোলা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী পুঁজিবাজারে প্রস্তাবিত মার্জিন বিধিমালাঃ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ, বাজারের স্থিতিশীলতা ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সাউথইস্ট ব্যাংকের দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ Notice of the 43rd AGM of National Bank PLC. ৫ দেশ থেকেই এলো ৬২% রেমিট্যান্স, সৌদির পর যুক্তরাজ্যের চমক সূচকের উত্থানে চলছে লেনদেন ভারতে স্থলপথে রপ্তানি বন্ধ, সংকটে পাবনার হোসিয়ারিশিল্প

প্রযুক্তি সহায়তায়: Star Web Host It