বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খানের বক্তব্যকে ঘিরে প্রকাশিত বিভ্রান্তিকর সংবাদের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিয়েছে কমিশন। বিএসইসি জানিয়েছে, বন্ধ (Closed) কোম্পানিগুলোকে ডিলিস্টিং করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে-এমন সংবাদ সঠিক নয় এবং তা চেয়ারম্যানের বক্তব্যের ভুল ও প্রসঙ্গবিচ্ছিন্ন উপস্থাপন।
রোববার প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিএসইসি জানায়, গত ৯ জুলাই ২০২৬ ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরাম (সিএমজেএফ)-এর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় চেয়ারম্যান মাসুদ খান পুঁজিবাজারের বিভিন্ন সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
কমিশনের দাবি, ওই সভায় দেওয়া একটি বক্তব্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে দেশের কয়েকটি সংবাদপত্র, অনলাইন পোর্টাল ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় এমন সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে যে, বিএসইসি বন্ধ কোম্পানিগুলোকে ডিলিস্টিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের সংবাদ সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর, ভিত্তিহীন এবং চেয়ারম্যানের বক্তব্যের সঠিক প্রতিফলন নয়।
বিএসইসি জানায়, মতবিনিময় সভায় চেয়ারম্যান মূলত উল্লেখ করেছিলেন যে, বিশ্বের অধিকাংশ পুঁজিবাজারে দীর্ঘদিন বন্ধ বা কার্যক্রমহীন কোম্পানিগুলোকে অনির্দিষ্টকাল তালিকাভুক্ত রাখা হয় না। তবে বাংলাদেশে দীর্ঘদিন কার্যক্রম বন্ধ থাকা কিছু কোম্পানি এখনও তালিকাভুক্ত রয়েছে, যা বিশেষ করে সাধারণ ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এ ধরনের কোম্পানির বিষয়ে প্রাথমিক নিয়ন্ত্রক (Frontline Regulator) হিসেবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট স্টক এক্সচেঞ্জের। এ লক্ষ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) বিষয়টি পর্যালোচনা করছে এবং একটি যৌক্তিক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে।
বিএসইসির তথ্যমতে, আলোচনার অংশ হিসেবে দীর্ঘদিন কার্যক্রমহীন কোম্পানিগুলোকে নির্দিষ্ট সময় যেমন এক বছরের মধ্যে কার্যক্রমে ফিরে আসার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যক্রমে ফিরতে ব্যর্থ হলে বিদ্যমান আইন, বিধি, লিস্টিং রেগুলেশনস এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এদিকে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ও সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিএসইসি দীর্ঘদিন বন্ধ, কার্যক্রমহীন, গোয়িং কনসার্ন ঝুঁকিতে থাকা, নিয়মিত বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) না করা কিংবা লভ্যাংশ না দেওয়া কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অধিকতর সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
প্রযুক্তি সহায়তায়: Star Web Host It
Leave a Reply