সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস রোববার সকাল থেকেই রাজধানী ঢাকায় টানা বৃষ্টি হচ্ছে। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় দিনের শুরু থেকেই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও সাধারণ যাত্রীরা।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার রাত ১২টা থেকে রোববার সকাল ৬টা পর্যন্ত মাত্র ৬ ঘণ্টায় ঢাকায় ৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। চলতি জুলাই মাসে রাজধানীতে একটানা এত বৃষ্টি এর আগে হয়নি। এছাড়া গত শনিবার সকাল ৬টা থেকে রোববার সকাল ৬টা পর্যন্ত শেষ ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে মোট ৯৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ তরিকুল নেওয়াজ কবীর জানান, সাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ, মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা এবং বায়ুচাপের তারতম্যের কারণে গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এর প্রভাবে ইতোমধ্যে দেশের সাতটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেন, গত কয়েক দিনে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে। তবে শনিবার ওই দুই বিভাগে বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমেছে। রোববার রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে তুলনামূলক বেশি বৃষ্টি হতে পারে। আগামীকাল সোমবার থেকে বৃষ্টির প্রবণতা কিছুটা কমতে পারে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, কয়েক দিনের ধারাবাহিক বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা আরও তীব্র হয়েছে। রোববার (১২ জুলাই) সকালে বিজয় সরণি, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের আড়ং মোড়, কারওয়ান বাজার, ধানমন্ডি, মিরপুরের কাজীপাড়াসহ বিভিন্ন সড়কে হাঁটুসমান পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। অনেক অলিগলিতেও পানি জমে চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রোববার সারাদিন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
রোববার (১২ জুলাই) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া এক সতর্কবার্তায় আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রাজশাহী, পাবনা, টাঙ্গাইল, ঢাকা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ী দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, এসব অঞ্চলের কোথাও কোথাও বজ্রসহ বৃষ্টি বা মুষলধারে বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
প্রযুক্তি সহায়তায়: Star Web Host It
Leave a Reply