1. news@gmail.com : news :

মুনাফা বাড়ল তিন ব্যাংকের, তবু বিপাকে ইয়েস ব্যাংক

  • Update Time : Sunday, October 18, 2026

ভারতের বেসরকারি খাতের তিন ব্যাংক—ইয়েস ব্যাংক, আইসিআইসিআই ব্যাংক ও অ্যাক্সিস ব্যাংক—২০২৬-২৭ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে মুনাফায় প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। ঋণের চাহিদা বৃদ্ধি, সুদ আয় বাড়া এবং খেলাপি ঋণের বিপরীতে সংস্থান কমে আসা ব্যাংকগুলোর আয়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তবে পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি ও অন্যান্য আয় কমে যাওয়ায় অ্যাক্সিস ব্যাংকের মুনাফা বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। অন্যদিকে, আদালতের রায়ের আর্থিক প্রভাব হিসাবভুক্ত না করায় ইয়েস ব্যাংকের মুনাফার হিসাবেও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) প্রকাশিত ব্যাংকগুলোর দ্বিতীয় প্রান্তিকের আর্থিক ফলাফলের বরাতে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

তিন ব্যাংকের মধ্যে আইসিআইসিআই ব্যাংক বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছাড়িয়ে মুনাফা অর্জন করেছে। জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ব্যাংকটির একক নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৮৪৩ কোটি রুপি, যা আগের বছরের একই সময়ের ১২ হাজার ৩৫৯ কোটি রুপির তুলনায় ২০ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছিল ১৪ হাজার ২৫১ কোটি রুপি।

ব্যাংকটির নিট সুদ আয় ১৭ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ২৫ হাজার ৩৩৯ কোটি রুপিতে পৌঁছেছে। একই সময়ে মোট ঋণ বিতরণ ৩০ শতাংশ এবং আমানত ২৭ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে।

তবে মুনাফার অন্যতম সূচক নিট সুদ মার্জিন আগের প্রান্তিকের ৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে কমে ৪ দশমিক ১৮ শতাংশ হয়েছে। অন্যদিকে, খেলাপি ঋণ ও অন্যান্য সম্ভাব্য ক্ষতির বিপরীতে সংরক্ষিত অর্থ ৬ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ৮৫১ কোটি রুপিতে নেমেছে। সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংকটির মোট খেলাপি ঋণের অনুপাত দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ২০ শতাংশ, যা আগের প্রান্তিকে ছিল ১ দশমিক ৩৮ শতাংশ।

এদিকে অ্যাক্সিস ব্যাংকের মুনাফা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়লেও তা বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ব্যাংকটির একক নিট মুনাফা হয়েছে ৭ হাজার ৩ কোটি রুপি। আগের বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ৯০ কোটি রুপি। ফলে এক বছরে মুনাফা বেড়েছে ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ।

ব্যাংকটির নিট সুদ আয় ১১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১৫ হাজার ৩৭১ কোটি রুপিতে দাঁড়িয়েছে। মোট ঋণ বেড়েছে ২৩ শতাংশ এবং আমানত বেড়েছে ২০ দশমিক ৭ শতাংশ।

তবে বন্ডের আয়সহ অন্যান্য উৎস থেকে আয় ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৬ হাজার ৫৩১ কোটি রুপিতে নেমেছে। একই সময়ে পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় মুনাফার ওপর চাপ তৈরি হয়। খেলাপি ঋণ ও অন্যান্য সম্ভাব্য ক্ষতির বিপরীতে সংস্থান ৫২ দশমিক ২ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬৯৪ কোটি রুপিতে নেমেছে।

সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংকটির মোট খেলাপি ঋণের অনুপাত আগের প্রান্তিকের ১ দশমিক ২৮ শতাংশ থেকে কমে ১ দশমিক ১৬ শতাংশ হয়েছে।

অন্যদিকে ইয়েস ব্যাংকের দ্বিতীয় প্রান্তিকের নিট মুনাফা আগের বছরের তুলনায় ৬৫ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৮০ কোটি রুপিতে দাঁড়িয়েছে। গত বছরের একই সময়ে ব্যাংকটির মুনাফা ছিল প্রায় ৬৫৫ কোটি রুপি। বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছিল ৯৫৫ কোটি রুপি।

তবে এ মুনাফার হিসাবের সঙ্গে বড় ধরনের আইনি অনিশ্চয়তা জড়িয়ে রয়েছে। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি ২০২০ সালে ব্যাংকটির ৮ হাজার ৪০০ কোটি রুপির অতিরিক্ত প্রথম স্তরের মূলধনী বন্ড বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করেছে। এ রায়ের আর্থিক প্রভাব এখনো প্রান্তিকের হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেনি ব্যাংকটি।

ইয়েস ব্যাংকের ভাষ্য অনুযায়ী, আদালতের সিদ্ধান্তের প্রভাব হিসাবভুক্ত করা হলে দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৫ হাজার ২১৭ কোটি রুপির নিট লোকসান হতো। ব্যাংকটি জানিয়েছে, রায় বাস্তবায়নের পদ্ধতি ও সময় নির্ধারণসহ সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপ পর্যালোচনা করা হচ্ছে। প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টে আরও আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

আদালতের রায়ের প্রভাব সমন্বয় করা হলে ব্যাংকটির নিট সম্পদ ৫৩ হাজার ২৬৮ কোটি রুপি থেকে কমে ৪৬ হাজার ৯৭০ কোটি রুপিতে দাঁড়াতে পারে। একই সঙ্গে ঋণের পরিমাণ ৭৭ হাজার ৭৩৪ কোটি রুপি থেকে বেড়ে ৮৬ হাজার ১৪৯ কোটি রুপিতে পৌঁছাতে পারে। তবে ব্যাংকটির মোট মূলধন পর্যাপ্ততার অনুপাত ১৪ দশমিক ৫ শতাংশে অপরিবর্তিত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, ব্যাংকটির নিট সুদ আয় ২২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৮২২ কোটি রুপিতে দাঁড়িয়েছে। ঋণ বিতরণ বেড়েছে ২৩ দশমিক ৭ শতাংশ এবং আমানত বেড়েছে ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ। খেলাপি ঋণ ও অন্যান্য সম্ভাব্য ক্ষতির বিপরীতে সংস্থান ২৪ দশমিক ২ শতাংশ কমে ৩১৭ কোটি রুপিতে নেমেছে। সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংকটির মোট খেলাপি ঋণের অনুপাত ১ দশমিক ২০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা জুন শেষে ছিল ১ দশমিক ৩০ শতাংশ।

এছাড়াও তিন ব্যাংকের ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, ঋণ বিতরণ বৃদ্ধি এবং খেলাপি ঋণের বিপরীতে সংস্থান কমে আসা মুনাফা বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে। তবে অ্যাক্সিস ব্যাংকের ক্ষেত্রে পরিচালন ব্যয় ও অন্যান্য আয় এবং ইয়েস ব্যাংকের ক্ষেত্রে আদালতের রায়ের প্রভাব বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে। আইসিআইসিআই ব্যাংক বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছাড়িয়ে মুনাফা অর্জন করলেও নিট সুদ মার্জিন কমেছে।

সব মিলিয়ে, ভারতের বেসরকারি ব্যাংক খাতে ঋণ ও আমানত বৃদ্ধির ইতিবাচক ধারা থাকলেও আয়, ব্যয় এবং আইনি ঝুঁকি সামলানোর সক্ষমতা ব্যাংকগুলোর আর্থিক ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন

প্রযুক্তি সহায়তায়: Star Web Host It