1. news@gmail.com : news :

বসুন্ধরা গ্রুপ কতটা বড়, জানেন কি?

  • Update Time : Sunday, October 11, 2026

আবাসন ব্যবসা দিয়ে যাত্রা শুরু। এরপর একে একে যুক্ত হয়েছে কাগজ, টিস্যু, স্বাস্থ্যসুরক্ষাসামগ্রী, সিমেন্ট, ইস্পাত, জ্বালানি, খাদ্য, পরিবহন, গণমাধ্যম ও বিনোদন খাত।

প্রায় চার দশকের ব্যবধানে একটি আবাসন প্রতিষ্ঠান থেকে বহুমুখী শিল্প ও সেবাভিত্তিক ব্যাবসায়িক গোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপ। বর্তমানে দেশের অর্থনীতির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে রয়েছে গ্রুপটির ব্যাবসায়িক কার্যক্রম।
১৯৮৭ সালে ইস্ট ওয়েস্ট প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেডের মাধ্যমে আবাসন ব্যবসা শুরু করে বসুন্ধরা। পরে ব্যবসার পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদন, বিপণন, পরিবহন ও সেবামূলক কার্যক্রমেও বিনিয়োগ করে প্রতিষ্ঠানটি।

এর ফলে গ্রুপটির ব্যবসা এখন শুধু আবাসন কিংবা ভোগ্যপণ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বিভিন্ন শিল্প ও সেবার সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে একটি বিস্তৃত ব্যাবসায়িক কাঠামো।

আবাসন দিয়ে শুরু

বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যাবসায়িক ভিত্তি গড়ে ওঠে আবাসন খাতকে কেন্দ্র করে। ইস্ট ওয়েস্ট প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেডের মাধ্যমে শুরু হওয়া এ কার্যক্রমের বিস্তার ঘটেছে আবাসিক এলাকা, বাণিজ্যিক স্থাপনা ও অবকাঠামো উন্নয়নে।

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা এবং বসুন্ধরা সিটি এ ব্যবসার পরিচিত উদাহরণ।

এ খাতের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে টগি রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেডসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। আবাসন ব্যবসার পাশাপাশি বাণিজ্যিক স্থাপনা ও অবকাঠামো উন্নয়নের মধ্য দিয়ে গ্রুপটির কার্যক্রমের পরিধি বেড়েছে।

কাগজ, টিস্যু ও স্বাস্থ্যসুরক্ষাসামগ্রী

বসুন্ধরা গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসাগুলোর একটি কাগজ ও টিস্যু উৎপাদন। এ খাতে রয়েছে বসুন্ধরা পেপার মিলস পিএলসি, বসুন্ধরা ফাইন পেপার মিলস লিমিটেড এবং বসুন্ধরা মাল্টি-পেপার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।

বসুন্ধরা টিস্যু, পেটাল টিস্যু, বসুন্ধরা পেপার ও বসুন্ধরা এক্সারসাইজ বুকের মতো ব্র্যান্ডের পণ্য দেশের বাজারে পরিচিত। স্বাস্থ্যসুরক্ষাসামগ্রীর বাজারেও রয়েছে গ্রুপটির উপস্থিতি। এ খাতে রয়েছে মোনালিসা স্যানিটারি ন্যাপকিন, বসুন্ধরা বেবি ওয়াইপস, বসুন্ধরা ডায়াপার ও বসুন্ধরা ডায়াপ্যান্ট।

এসব পণ্যের উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের সঙ্গে কাঁচামাল সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, মাননিয়ন্ত্রণ, মোড়কজাতকরণ, পরিবহন ও বিপণনের মতো কার্যক্রম যুক্ত। ফলে কারখানার কর্মী থেকে শুরু করে পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত বিস্তৃত একটি সরবরাহব্যবস্থা গড়ে উঠেছে।

রপ্তানি ও রাজস্ব আয়ের ক্ষেত্রেও কাগজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা রয়েছে। বসুন্ধরা পেপার মিলস পিএলসির ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির রপ্তানি বিক্রির পরিমাণ ছিল প্রায় ৭০ কোটি ১৬ লাখ টাকা। আগের অর্থবছর, অর্থাৎ ২০২৩-২৪ সালে এ পরিমাণ ছিল প্রায় ৮৭ কোটি পাঁচ লাখ টাকা।

একই প্রতিবেদনে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জাতীয় কোষাগারে প্রায় ৬০ কোটি ৮০ লাখ টাকা অবদানের কথা উল্লেখ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে এ রপ্তানি বিক্রি ও রাজস্বের হিসাব শুধু বসুন্ধরা পেপার মিলস পিএলসির। পুরো বসুন্ধরা গ্রুপের সম্মিলিত রপ্তানি আয় কিংবা কর অবদানের হিসাব এটি নয়।

সিমেন্ট ও ইস্পাতশিল্পে বসুন্ধরা

দেশের অবকাঠামো ও নির্মাণ খাতেও রয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবসা। এ খাতে উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে বসুন্ধরা সিমেন্ট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, বসুন্ধরা ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্স লিমিটেড, বসুন্ধরা স্টিল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড, বসুন্ধরা মাল্টি স্টিল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এবং বসুন্ধরা রেডিমিক্স অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।

বসুন্ধরা সিমেন্ট, কিং ব্র্যান্ড সিমেন্ট, রেডিমিক্স, পিএইচসি পাইল ও পিসি বাউন্ডারি ওয়াল এ খাতের পরিচিত পণ্য ও ব্র্যান্ড।

বসুন্ধরার নিজস্ব প্রকাশনায় বলা হয়েছে, তাদের সিমেন্ট পদ্মা সেতু, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও মেট্রোরেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পে ব্যবহৃত হয়েছে।

এখানে প্রতিষ্ঠান ও ব্র্যান্ডের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। কিং ব্র্যান্ড সিমেন্ট একটি ব্র্যান্ড। অন্যদিকে মেঘনা সিমেন্ট মিলস পিএলসি একটি তালিকাভুক্ত কোম্পানি। বসুন্ধরা সিমেন্টও একটি ব্র্যান্ডের নাম।

সিমেন্ট ও ইস্পাতের মতো নির্মাণসামগ্রীর দেশীয় উৎপাদন অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি শিল্প-কারখানা, পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ব্যবসার চাহিদা তৈরি করে। এ কারণে এ খাতের অর্থনৈতিক প্রভাব শুধু পণ্য বিক্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

জ্বালানি, বিটুমিন ও পরিবহন

জ্বালানি খাতেও রয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপের কার্যক্রম। বসুন্ধরা এলপি গ্যাস লিমিটেডের মাধ্যমে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের ব্যবসায় যুক্ত রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি বসুন্ধরা অয়েল অ্যান্ড গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের মাধ্যমে বিটুমিন উৎপাদনসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সড়ক নির্মাণসহ বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্পে বিটুমিনের ব্যবহার রয়েছে।

এ ছাড়া বসুন্ধরা কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ও বসুন্ধরা গোল্ড রিফাইনারি লিমিটেডের মতো উদ্যোগও রয়েছে। এবিজির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মূল্যবান ধাতু পরিশোধনসংক্রান্ত নতুন উদ্যোগের অংশ হিসেবে গোল্ড রিফাইনারি গড়ে তোলা হচ্ছে।

জ্বালানি ও শিল্পপণ্যের সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখতে পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনার গুরুত্বও রয়েছে। এ খাতে কাজ করছে বসুন্ধরা লজিস্টিকস লিমিটেড, বসুন্ধরা মাল্টি ট্রেডিং লিমিটেড এবং টগি শিপিং অ্যান্ড লজিস্টিকস লিমিটেড।

বসুন্ধরা লজিস্টিকসের নিজস্ব প্রকাশনায় বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে জ্বালানি ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য পরিবহনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দেশের জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থায় ভূমিকা রাখছে। সরকারি সংরক্ষণাগার ও ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের সঙ্গে পরিবহনসংক্রান্ত কার্যক্রমও রয়েছে তাদের। অর্থাৎ জ্বালানি আমদানি বা উৎপাদনের পর তা নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছানো, সংরক্ষণ এবং শিল্প-কারখানার চাহিদা পূরণে পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

খাদ্য ও রেস্তোরাঁ ব্যবসা

খাদ্য ও পানীয় খাতেও রয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপের সংশ্লিষ্ট ব্যবসা। এ খাতে বসুন্ধরা ফুড অ্যান্ড বেভারেজ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মতো প্রতিষ্ঠান রয়েছে। অন্যদিকে সাফওয়ান বসুন্ধরা গ্লোবালের খাদ্যশৃঙ্খলভিত্তিক উদ্যোগের আওতায় রয়েছে ক্যাফে লিও, সানফ্লাওয়ার রেস্তোরাঁ এবং লোলা ক্যাটারিং সার্ভিসেস।

আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সঙ্গেও যুক্ত হয়েছে নতুন উদ্যোগ। থাইল্যান্ডের কফিশপের শৃঙ্খল ক্যাফে অ্যামাজন বাংলাদেশে বসুন্ধরা গ্রুপের প্রধান ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থার মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করেছে। ২০২৬ সালের আগস্টে ঢাকায় এর বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হয়। এ ধরনের উদ্যোগের সঙ্গে শুধু খাদ্য ও পানীয় বিক্রি নয়, রেস্তোরাঁ পরিচালনা, কর্মসংস্থান, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান, প্রশিক্ষণ এবং গ্রাহকসেবার মতো কার্যক্রমও যুক্ত।

গণমাধ্যমে বিস্তৃত উপস্থিতি

শিল্প ও ভোগ্যপণ্যের বাইরেও গণমাধ্যমে রয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি। ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ পিএলসি প্রতিষ্ঠানটির গণমাধ্যমভিত্তিক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর আওতায় রয়েছে কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ডেইলি সান, বাংলানিউজ২৪ ডটকম, নিউজ২৪, টি স্পোর্টস ও রেডিও ক্যাপিটালের মতো সংবাদমাধ্যম। ফলে গণমাধ্যমের বিভিন্ন শাখায় গ্রুপটির ব্যাবসায়িক কার্যক্রম বিস্তৃত হয়েছে।

একই ব্যাবসায়িক গোষ্ঠীর অধীনে উৎপাদন, বিপণন, পরিবহন ও গণমাধ্যমের মতো ভিন্নধর্মী খাতের উপস্থিতি প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসার বহুমাত্রিকতা তুলে ধরে।

বিনোদন, ফিটনেস ও জীবনধারাভিত্তিক সেবা

বিনোদন ও জীবনধারাভিত্তিক সেবার বাজারেও বিনিয়োগ রয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপের। রাজধানীর বসুন্ধরা সিটিতে অবস্থিত টগি ফান ওয়ার্ল্ড একটি বিনোদনকেন্দ্র। সেখানে বিভিন্ন ধরনের খেলা, রাইড ও ভার্চ্যুয়াল বাস্তবতাভিত্তিক বিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে। ফিটনেস খাতে রয়েছে গোল্ডস জিম বাংলাদেশ, যা বসুন্ধরা গ্রুপের প্রধান ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থার অধীনে পরিচালিত হচ্ছে।

অন্যদিকে সাফওয়ান বসুন্ধরা গ্লোবালের নতুন উদ্যোগ বসুন্ধরা সুপারগলফ ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে যাত্রা শুরু করেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এখানে ডিজিটাল প্রযুক্তিতে বলের গতিপথ শনাক্ত করার ব্যবস্থাসহ ১০৭টি গলফ বে রয়েছে। গ্রুপটির ব্যবসা ভারী শিল্প ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পাশাপাশি বিনোদন, শরীরচর্চা এবং অভিজ্ঞতাভিত্তিক সেবার বাজারেও বিস্তৃত হচ্ছে।

অর্থনীতিতে বহুমুখী প্রভাব

বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যাবসায়িক বিস্তারের অন্যতম দিক হলো বিভিন্ন শিল্প ও সেবার মধ্যে সংযোগ তৈরি হওয়া। আবাসন, কাগজ, টিস্যু, স্বাস্থ্যসুরক্ষাসামগ্রী, সিমেন্ট, ইস্পাত, জ্বালানি, খাদ্য, পরিবহন, গণমাধ্যম ও বিনোদন বিভিন্ন খাতে তাদের কার্যক্রম রয়েছে।

এর কয়েকটি ক্ষেত্রে বিবেচনা করা যায়। প্রথমত, কর্মসংস্থান। কারখানা, কার্যালয়, পরিবহন, পণ্য বিতরণ, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এবং খুচরা বিক্রির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়। সাফওয়ান বসুন্ধরা গ্লোবালের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, তাদের কার্যক্রমের সঙ্গে প্রায় লাখো কর্মী ও শ্রমিক যুক্ত। তবে এ সংখ্যার আওতা ও হিসাবের পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য ছাড়া এটিকে পুরো বসুন্ধরা গ্রুপের কর্মীর সংখ্যা হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

দ্বিতীয়ত, দেশীয় উৎপাদন ও মূল্য সংযোজন। কাগজ, টিস্যু, স্বাস্থ্যসুরক্ষাসামগ্রী, সিমেন্ট, ইস্পাত, জ্বালানি ও খাদ্যপণ্য উৎপাদনের সঙ্গে কাঁচামাল সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, উৎপাদন, মোড়কজাতকরণ ও বিপণনের বিভিন্ন ধাপ যুক্ত। এসব কার্যক্রমে দেশীয় শিল্প ও সরবরাহব্যবস্থার অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়।

তৃতীয়ত, রপ্তানি ও বৈদেশিক মুদ্রা আয়। বসুন্ধরা পেপার মিলস পিএলসির ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির রপ্তানি বিক্রির পরিমাণ ছিল প্রায় ৭০ কোটি ১৬ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরে তা ছিল প্রায় ৮৭ কোটি পাঁচ লাখ টাকা। এ তথ্য দেশের উৎপাদিত কাগজ ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রির উপস্থিতি তুলে ধরে।

চতুর্থত, রাজস্ব আয়। একই প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক প্রতিবেদনে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জাতীয় কোষাগারে প্রায় ৬০ কোটি ৮০ লাখ টাকা অবদানের কথা বলা হয়েছে। তবে এ হিসাবও শুধু বসুন্ধরা পেপার মিলস পিএলসির; পুরো গ্রুপের সম্মিলিত কর ও রাজস্ব অবদানের পরিমাণ নয়।

চার দশকে ব্যবসার রূপান্তর

১৯৮৭ সালে আবাসন ব্যবসা দিয়ে যাত্রা শুরু করা বসুন্ধরা গ্রুপের কার্যক্রম সময়ের সঙ্গে বহুমুখী হয়েছে। কাগজ ও টিস্যু থেকে শুরু করে সিমেন্ট, ইস্পাত, জ্বালানি, খাদ্য, পরিবহন, গণমাধ্যম ও বিনোদন বিভিন্ন খাতে ব্যবসার বিস্তার ঘটেছে।

একটি প্রতিষ্ঠানের পণ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে তা পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও ভোক্তার কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে বহু প্রতিষ্ঠান ও কর্মীর অংশগ্রহণ থাকে। বসুন্ধরা গ্রুপের ক্ষেত্রেও উৎপাদন, কর্মসংস্থান, সরবরাহব্যবস্থা, রপ্তানি ও রাজস্ব আয়ের বিভিন্ন স্তরে কার্যক্রমের উপস্থিতি রয়েছে।

তবে গ্রুপটির সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবদান নিরূপণ করতে হলে সব সহযোগী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত আয়, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, রপ্তানি এবং কর অবদানের হালনাগাদ ও যাচাইকৃত তথ্য প্রয়োজন। পৃথক প্রতিষ্ঠানের তথ্য দিয়ে পুরো গ্রুপের অবদানের পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া সম্ভব নয়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন



সর্বশেষ :
ইউসিবির রাইট শেয়ার বিনিয়োগকারীদের একাউন্টে জমা বসুন্ধরা গ্রুপ কতটা বড়, জানেন কি? এবি ব্যাংকের স্থানান্তরিত দেওয়ানহাট শাখার উদ্বোধন আইএমএফের শর্তে নতুন ঋণ নয়, বিকল্প অর্থায়ন খুঁজছে সরকার সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে কর্মশালা প্রিমিয়ার ব্যাংক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন আমানতকারীরা, খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩৮% নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চল নিয়ে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের স্ট্র্যাটেজিক কনক্লেভ অনুষ্ঠিত ব্যবসা সম্প্রসারণে জমি কিনবে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ দেশের বৃহত্তর স্বার্থে ‘জাতীয় বন্দর কৌশল’ প্রণয়ন করা হচ্ছে: নৌপরিবহনমন্ত্রী সূচকের পতনে লেনদেন ৫৬৪ কোটি টাকার

প্রযুক্তি সহায়তায়: Star Web Host It