1. news@gmail.com : news :

৫ দেশ থেকেই এলো ৬২% রেমিট্যান্স, সৌদির পর যুক্তরাজ্যের চমক

  • Update Time : Tuesday, July 21, 2026

বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) দেশে আসা মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ৬২ শতাংশই এসেছে মাত্র পাঁচটি দেশ থেকে। দেশগুলো হলো—সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), মালয়েশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র। এসব দেশে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী ও প্রবাসী বসবাস করায় প্রবাসী আয়ের বড় অংশ সেখান থেকেই এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসীরা মোট ৩ হাজার ২৭৭ কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। এর মধ্যে শীর্ষ পাঁচটি দেশ থেকেই এসেছে ২ হাজার ২৫ কোটি ডলার, যা মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ৬২ শতাংশ।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, আলোচ্য সময়ে সর্বোচ্চ ৫২৭ কোটি ৯৭ লাখ ডলার এসেছে সৌদি আরব থেকে, যা মোট রেমিট্যান্সের ১৬ শতাংশ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার এসেছে যুক্তরাজ্য থেকে। তালিকায় সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ৪২৭ কোটি ৮২ লাখ ডলার নিয়ে তৃতীয়, ৩২২ কোটি ডলার নিয়ে মালয়েশিয়া চতুর্থ এবং ২৭৮ কোটি ৯৬ লাখ ডলার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে।

এ ছাড়া ওমান, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, সিঙ্গাপুর ও ইতালি থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে। এই ছয় দেশ থেকে ১১ মাসে এসেছে প্রায় ৮৮৯ কোটি ডলার, যা মোট প্রবাসী আয়ের ২৭ শতাংশ। সব মিলিয়ে মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ৯০ শতাংশই এসেছে ১১টি দেশ থেকে।

শুধু মে মাসের হিসাবেও রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল উল্লেখযোগ্য। ওই মাসে প্রবাসীরা মোট ৩৪৪ কোটি ২৫ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৬৫ কোটি ৯ লাখ ডলার এসেছে যুক্তরাজ্য থেকে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫৪ কোটি ৬৫ লাখ ডলার এসেছে সৌদি আরব থেকে। আর ৪৬ কোটি ৮১ লাখ ডলার নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে ছিল ইউএই।

গত অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসের মধ্যে ১০ মাসই এককভাবে প্রবাসী আয়ের শীর্ষ উৎস ছিল সৌদি আরব। তবে মে মাসে সৌদিকে ছাড়িয়ে যায় যুক্তরাজ্য। অর্থবছরের শুরুতে, অর্থাৎ গত বছরের জুলাই মাসে যুক্তরাজ্য থেকে ২৮ কোটি ২৫ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। পরে তা ধারাবাহিকভাবে বাড়তে বাড়তে মে মাসে ১৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৬৫ কোটি ডলারে পৌঁছায়। জুন মাসের রেমিট্যান্সের তথ্য এখনো প্রকাশ করেনি বাংলাদেশ ব্যাংক।

সরকার প্রবাসীদের ব্যাংকিং চ্যানেলে আয় পাঠাতে উৎসাহ দিয়ে আসছে। এ জন্য ব্যাংকিং মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠালে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। এতে হুন্ডির মতো অবৈধ মাধ্যম নিরুৎসাহিত হচ্ছে। পাশাপাশি আগের তুলনায় ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়াও সহজ করা হয়েছে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে প্রবাসী আয়প্রবাহে।

তবে আর্থিক খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেশের মোট রেমিট্যান্সের প্রায় তিন-পঞ্চমাংশ মাত্র পাঁচটি দেশের ওপর নির্ভরশীল হওয়া অর্থনৈতিক নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে সংবেদনশীল। তাঁদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় অদক্ষ ও আধা দক্ষ শ্রমিক বেশি থাকায় সেখানকার রেমিট্যান্স সব সময় স্থিতিশীল থাকে না। অন্যদিকে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান তুলনামূলক শক্ত হওয়ায় সেখান থেকে আয় বেশি স্থিতিশীলভাবে আসে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রধান এই পাঁচ দেশের অর্থনৈতিক নীতি, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি বা শ্রমবাজারে বড় পরিবর্তন এলে তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশের প্রবাসী আয়ে। এর প্রভাব পড়বে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও। তাই নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ইউরোপ, পূর্ব এশিয়া ও দূরপ্রাচ্যের নতুন শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন



সর্বশেষ :
বছরজুড়ে নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে নজরদারি জোরদার হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী করোনায় লুটপাট ১৩ কোটি টাকা: দুর্নীতির মামলায় আসামি সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদসহ ১৩ হজ এজেন্ট কাফেলা কার্ড’ চালু করেছে ইসলামী ব্যাংক আন্তর্জাতিক বাজারে ওয়ালটনের মতো দেশীয় ব্র্যান্ডকে আরও তুলে ধরতে হবে: রাষ্ট্রদূত শফিকুর বান্দরবানের দুর্গম জনপদে ১০০ নারীর পাশে বসুন্ধরা শুভসংঘ বাংলাদেশ ব্যাংক ও ঢাকা ব্যাংকের মধ্যে অংশগ্রহণমূলক চুক্তি যমুনা ব্যাংকের আয়োজনে পিডিবিএলের বোর্ড ও দ্বি-মাসিক সভা অনুষ্ঠিত ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের স্ট্র্যাটেজিক কনক্লেভ অনুষ্ঠিত ডমিনেজ স্টিলের পাঁচ পরিচালককে ৫ কোটি টাকা জরিমানা সোমবার থেকে স্বাভাবিক লেনদেনে ডাচ-বাংলা ব্যাংক

প্রযুক্তি সহায়তায়: Star Web Host It