সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের দক্ষিণে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর একটি স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। শনিবারের (৩ আগস্ট) এ হামলার পর ওই এলাকায় আগুন ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। তবে হামলার বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ বা আরামকোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেছেন, সৌদি আরবের রাজধানী সানা ও ইয়েমেনের অন্যান্য এলাকায় চালানো হামলার জবাব হিসেবে রিয়াদের কাছে আরামকোর জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি দাবি করেন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়। তিনি বলেন, হামলার ফলে লক্ষ্যবস্তুতে আগুন ধরে যায়।
এর আগে রিয়াদের দক্ষিণাঞ্চলে আরামকোর একটি স্থাপনা থেকে আগুনের শিখা ও ঘন ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। সেখানে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতেও দেখা গেছে। তবে আগুনের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে সৌদি কর্তৃপক্ষ বা আরামকোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, এর আগের ২৪ ঘণ্টায় হুতিদের নিয়ন্ত্রণাধীন ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৬০টি বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। হুতিদের দাবি, এসব হামলার জবাব দিতেই রিয়াদের জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করা হয়েছে। তবে সৌদি পক্ষ হুতিদের এসব দাবির কয়েকটি অংশকে বিভ্রান্তিকর বলে অভিহিত করেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি রিয়াদে হামলার হুতিদের দাবিকে ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে মন্তব্য করেছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা আরও বেড়েছে। এরই মধ্যে সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনী ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ হুতিদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বিমান হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে হুতিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করছে।
এই উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরব হুতিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। এর অন্যতম লক্ষ্য ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূল এবং কৌশলগত বাব আল-মানদেব প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। অভিযানে সৌদি নেতৃত্বাধীন ইয়েমেনি বাহিনীকে যুক্তরাষ্ট্র গোয়েন্দা ও অন্যান্য সহায়তা দিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাব আল-মানদেব বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোর একটি। ফলে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ায় ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
প্রযুক্তি সহায়তায়: Star Web Host It
Leave a Reply