1. news@gmail.com : news :

সঞ্চয়পত্র–প্রাইজবন্ডসহ পাঁচ সেবা স্থগিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

  • Update Time : Tuesday, November 18, 2025

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশ ব্যাংক সাধারণ মানুষের জন্য সরাসরি দেওয়া পাঁচটি রিটেইল সেবা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একাধিক সূত্র জানায়, নিরাপত্তা ঝুঁকি কমানো, ভবন আধুনিকায়ন এবং উন্নত ভল্ট সুবিধা তৈরির প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ অনুযায়ী ৩০ নভেম্বর থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল সদর দপ্তর ও অন্যান্য শাখায় এসব সেবা বন্ধ হয়ে যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়কে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে এবং খুব শিগগিরই সাধারণ জনগণকে অবহিত করতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।

বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২৮টি কাউন্টারের মাধ্যমে সরকারের পক্ষে মোট ১০ ধরনের সেবা দিয়ে থাকে। এর মধ্যে পাঁচটি সেবা—সঞ্চয়পত্র আদান–প্রদান, প্রাইজবন্ড বিক্রি, ত্রুটিযুক্ত নোট বিনিময়, পিএডি লেনদেন এবং চালানের ভাংতি—চলতি সিদ্ধান্তের আওতায় বন্ধ হচ্ছে। পাশাপাশি এসব সেবা পরিচালনায় ব্যবহৃত ১২টি কাউন্টারও বন্ধ থাকবে। তবে দাপ্তরিক প্রয়োজনে সঞ্চয়পত্র, প্রাইজবন্ড ও চালানসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় লেনদেনের জন্য একটি অভ্যন্তরীণ কাউন্টার রাখা হবে।

গত কয়েক মাস ধরে ধারাবাহিক সভায় বিষয়টি আলোচনা শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায় বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আগে ২২ জুন গভর্নর মূল ভবনের ক্যাশ বিভাগ পরিদর্শন করে কয়েকটি নিরাপত্তা ঝুঁকির দিক নির্দেশ করেন। পরবর্তীতে গঠিত কমিটি সেপ্টেম্বরে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়—বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল ভবন কেপিআই নিরাপত্তা নীতিমালার আওতাভুক্ত। একই ভবনে মুদ্রা ইস্যু–বিতরণ, ভল্ট কার্যক্রম, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা এবং ব্যাংকিং তদারকির মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সাধারণ মানুষের অতিরিক্ত ভিড় এসব কার্যক্রমের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। অতীতে রিজার্ভ হ্যাকিং, সঞ্চয়পত্র জালিয়াতি, ভবনের ভেতরে ছবি–ভিডিও ধারণ এবং নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে উত্তেজনা তৈরির ঘটনাও ঘটেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সঞ্চয়পত্র ও প্রাইজবন্ড বিক্রির মতো সেবা বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে সহজেই দেওয়া সম্ভব। বর্তমানে দেশের ৬০টির বেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখা এ ধরনের সেবা দিতে সক্ষম। ফলে এসব রিটেইল সেবা বন্ধ হলেও জনগণের ভোগান্তি হবে না। বিশ্বের কোনো কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরাসরি এ ধরনের রিটেইল সেবা জনগণকে দেয় না বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তবে সঞ্চয়পত্র বিক্রি বন্ধ হলেও পূর্বে ইস্যু করা সঞ্চয়পত্রের মেয়াদকাল পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সব সেবা স্বাভাবিকভাবে চালু থাকবে। মেয়াদপূর্তির পর সেগুলো পুনঃবিনিয়োগ করা যাবে না। ব্যাংক হিসাব পরিবর্তন, মোবাইল নম্বর হালনাগাদ, নমিনি সংযোজন বা পরিবর্তন, ক্রেতার মৃত্যুর পর নমিনির মাধ্যমে পরিচালনা, আগাম নগদায়নসহ স্বাভাবিক আইনগত সেবা অব্যাহত থাকবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন



প্রযুক্তি সহায়তায়: Star Web Host It