1. news@gmail.com : news :

বোরো মৌসুমে জমে উঠেছে মাগুরার বেড়-মাথালের বাজার

  • Update Time : Sunday, May 17, 2026

চলছে বোরো ধান কাটার মৌসুম। অনুকূল আবহাওয়া ও ভালো ফলনের কারণে এখন মাঠজুড়ে কৃষকদের ব্যস্ততা। তীব্র তাপপ্রবাহ উপেক্ষা করে মাথায় মাথাল পরে ধান কাটছেন কৃষক ও শ্রমিকরা। আর ধানের এই মৌসুমকে ঘিরে জমে উঠেছে মাগুরার শালিখা উপজেলার আড়পাড়া বাজারের বাঁশ-বেতের তৈরি কৃষি সামগ্রীর দোকানগুলো।

প্রতি শনিবার ও বুধবার বাজারে বাড়ছে ক্রেতাদের ভিড়। দিনভর বিক্রি হচ্ছে ধান সংরক্ষণের বেড় বা চাটাই, মাথাল, ধামা, কুলা, ডোলসহ নানা ধরনের কৃষি সামগ্রী। বিক্রেতাদের দাবি, ধানের মৌসুম এলেই অন্যান্য পণ্যের তুলনায় মাথাল, বেড় ও ডোলের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

শনিবার (১৬ মে) সরেজমিনে আড়পাড়া বাজার ঘুরে দেখা যায়, কেউ মাথাল কিনছেন, কেউ ধানের বেড়, আবার কেউ কিনছেন ধামা বা ডোল। বাজারে প্রতিটি মাথাল বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায়। ধানের বেড়ের দাম ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা, ধামা ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং ধান সংরক্ষণের ডোল বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায়।

বিক্রেতারা জানান, মোট বিক্রিত মাথালের প্রায় ৭০ শতাংশই কিনছেন বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা কৃষিশ্রমিকরা।

কৃষিশ্রমিক ইসরাইল মিয়া বলেন, যে রোদ পড়ছে, তাতে মাথাল ছাড়া মাঠে কাজ করা অসম্ভব। তাই দাম একটু বেশি হলেও আগে মাথাল কিনতেছি, তারপর কাজে যাচ্ছি।

ফরিদপুর থেকে শ্রম বিক্রি করতে আসা লতিফ, আজগর ও রুস্তম জানান, বাড়ি থেকে শুধু কাঁচি নিয়ে এসেছেন তারা। আড়পাড়া বাজারে এসে তিনজন তিনটি মাথাল কিনেছেন। এরপর যারা শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ করবেন, তাদের জমিতে গিয়ে ধান কাটার কাজ করবেন।

বেড় ও মাথাল বিক্রেতা সুবাস বিশ্বাস বলেন, সারা বছর অন্যান্য গৃহস্থালি সামগ্রী বিক্রি করে যে আয় হয়, ধানের মৌসুমে শুধু মাথাল, ধামা, কুলা ও চাটাই বিক্রি করেই তার তিনগুণ আয় করা যায়। তাই এ সময় আমরা শুধু কৃষি সামগ্রী বিক্রিতেই ব্যস্ত থাকি।

আরেক বিক্রেতা রনজিৎ কুমার বলেন, এ বছর গরম বেশি হওয়ায় মাথালের চাহিদা অনেক বেড়েছে। তবে অন্যান্য কৃষি সামগ্রীও ভালো বিক্রি হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শালিখা উপজেলায় ১৩ হাজার ৫৭৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ২০ শতাংশ জমির ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। গড় ফলন হেক্টরপ্রতি ৪ দশমিক ৮ টন (চাউল)। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে শতভাগ ধান কাটা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবুল হাসনাত বলেন, এ বছর উন্নত ও উচ্চ ফলনশীল জাতের ধানের আবাদ বেড়েছে। পাশাপাশি আবহাওয়াও অনুকূলে থাকায় গত বছরের তুলনায় বোরো ধানের ফলন বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন

প্রযুক্তি সহায়তায়: Star Web Host It