বাজেট বাস্তবায়নের জন্য যে অর্থের প্রয়োজন হয়, তার সবচেয়ে বড় অংশ বা প্রায় ৩৮ শতাংশ আসে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) থেকে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এনবিআরকে ২ লাখ ২৩ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্য দেয়া হচ্ছে। যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় ৩৮ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা বেশি।
আয়কর ও ভ্রমণ খাত থেকেও রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হচ্ছে। নতুন অর্থবছরে এই খাত থেকে মোট রাজস্বের ৩৭ শতাংশ আদায় করতে চায় এনবিআর। এ খাত থেকে আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে যার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৭৫ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা।
এদিকে আমদানি ও রফতানি খাত থেকে শুল্ক বাবদ এনবিআরকে ১ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকার বেশি আদায় করতে হবে। চলতি অর্থবছরের তুলনায় এ খাতে লক্ষ্যমাত্রা বাড়ছে ২৭ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।
তবে অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, কর প্রশাসনের আধুনিকায়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ছাড়া শুধু রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য বাড়িয়ে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না। অর্থনীতি বিশ্লেষক মো. মাজেদুল হক বলেন, সরকার রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর জন্য বড় ধরনের উদ্যোগ বা পরিকল্পনা নিচ্ছে। তবে শুধু ‘বিগ পুশ’ দিয়ে রাতারাতি রাজস্ব আদায় বাড়ানো সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, এজন্য ধীরে ধীরে কাজ করতে হবে এবং করের আওতা বাড়াতে হবে। কিন্তু করের পরিমাণ বাড়িয়ে দিলে নিয়মিত করদাতারা নিরুৎসাহিত হয়ে পড়বেন। বাংলাদেশে যারা কর দেন তারা প্রতি বছরই কর দিচ্ছেন, আর যারা কর দেন না তারা এখনও করের বাইরে রয়েছেন। তাই রাজস্ব বাড়াতে হলে ভ্যাট ফাঁকিদাতাদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে মোট ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য দেয়া হচ্ছে।
Leave a Reply