প্রথম কর্মশালার সফলতার ধারাবাহিকতায় এভিয়েশন.কম.বিডি দ্বিতীয়বারের মতো ‘ট্যুর গাইড টেকনিক অ্যান্ড অপারেশন’ শীর্ষক কর্মশালার আয়োজন করেছে। শনিবার (২৭ জুন) রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী এই কর্মশালায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ২৩ জন অংশগ্রহণকারী সফলভাবে অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন অভিজ্ঞ ট্যুর গাইড, পর্যটন পেশাজীবী, ভ্রমণ উদ্যোক্তা, শিক্ষার্থী এবং পর্যটন খাতে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী তরুণ-তরুণীরা।
রাজধানীর বাংলামোটরে অবস্থিত বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় প্রেজেন্টেশন, দলীয় আলোচনা, টিমওয়ার্ক, কেস স্টাডি এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে একটি প্রাণবন্ত ও অংশগ্রহণমূলক শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করা হয়।
কর্মশালায় একজন পেশাদার ট্যুর গাইডের দায়িত্ব, পর্যটক ব্যবস্থাপনা কৌশল, গন্তব্য উপস্থাপন, কার্যকর যোগাযোগ দক্ষতা, গ্রাহকসেবার মান, নিরাপত্তা বিষয়ক সচেতনতা এবং পর্যটন শিল্পের বর্তমান প্রবণতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এর মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের ট্যুর গাইডিং পেশা সম্পর্কে ব্যবহারিক জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি হয়।
কর্মশালাটি পরিচালনা করেন জার্নি প্লাস-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী এবং প্যাসিফিক এশিয়া ট্র্যাভেল অ্যাসোসিয়েশন (পাটা)-বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সাধারণ সম্পাদক তৌফিক রহমান। ইনবাউন্ড ট্যুরিজম ও হসপিটালিটি শিক্ষায় প্রায় তিন দশকের অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি শিল্পের বিভিন্ন বাস্তবতা, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্পর্কে মূল্যবান দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
কর্মশালায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তৌফিক রহমান বলেন, “একজন ট্যুর গাইড শুধু দর্শনার্থীদের বিভিন্ন স্থান ঘুরিয়ে দেখান না; তিনি একটি গন্তব্যের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও গল্পকে জীবন্ত করে তোলেন। সেবার মান উন্নয়ন এবং বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশে পেশাদার প্রশিক্ষণ ও ধারাবাহিক শিক্ষার বিকল্প নেই।”
অনুষ্ঠানে ট্রাভেল ক্যানভাস ইভেন্ট সাপোর্ট পার্টনার এবং দি বাংলাদেশ মনিটর মিডিয়া পার্টনার হিসেবে সহযোগিতা প্রদান করে।
সনদ বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ট্রাভেল ক্যানভাস-এর চিফ এডিটর সৈয়দ গোলাম কাদির। তিনি বলেন, “একজন ট্যুর গাইড একটি দেশের দূত। কারণ, একজন বিদেশি পর্যটকের কাছে তিনিই পুরো দেশকে প্রতিনিধিত্ব করেন। তাই একজন ট্যুর গাইডের উচিত দেশের বিভিন্ন গন্তব্য, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করা, যাতে তিনি বাংলাদেশের সঠিক পরিচয় বিদেশি পর্যটকদের সামনে তুলে ধরতে পারেন।” তিনি এ ধরনের সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণের জন্য এভিয়েশন.কম.বিডি-কে ধন্যবাদ জানান।
ট্রাভেল ক্যানভাস-এর প্রকাশক জহিরুল আলম ভূঁইয়া বলেন, “ট্যুর গাইড পেশা শুধু একজন গাইড হিসেবেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি পর্যটন শিল্পে আরও অনেক পেশাগত সুযোগের দ্বার খুলে দিতে পারে। একজন দক্ষ ট্যুর গাইডের জন্য ভালো যোগাযোগ দক্ষতা, বিশেষ করে ইংরেজিতে সাবলীলভাবে কথা বলতে পারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি ফার্স্ট এইড, সংকট ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে নমনীয়ভাবে কাজ করার মতো অতিরিক্ত দক্ষতাও একজন পেশাদার ট্যুর গাইডকে আরও সমৃদ্ধ করে।”
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এভিয়েশন.কম.বিডি-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ বলেন, “আমাদের প্রথম কর্মশালার সাফল্য প্রমাণ করেছে যে ট্যুর গাইডদের জন্য প্রশিক্ষণ ও জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার চাহিদা রয়েছে। এই ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সংযোগ স্থাপন করতে চাই এবং ‘কানেক্ট, কোলাবোরেট, প্রমোট, ইনস্পায়ার’—এই দর্শনের আলোকে বাংলাদেশের পর্যটন খাতের টেকসই উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চাই।”
কর্মশালার সমাপ্তিতে সফলভাবে প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী ২৩ জন অংশগ্রহণকারীর মধ্যে অংশগ্রহণ সনদ প্রদান করা হয়।
আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও এভিয়েশন.কম.বিডি পর্যটন শিল্পের দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, নেটওয়ার্কিং কার্যক্রম এবং ব্যবহারিক শিক্ষাভিত্তিক বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করবে, যাতে দেশের পর্যটন খাত আরও সমৃদ্ধ ও পেশাদার হয়ে উঠতে পারে।
প্রযুক্তি সহায়তায়: Star Web Host It
Leave a Reply