1. news@gmail.com : news :

ইস্টার্ন রিফাইনারিতে ১৯ দিনে শোধিত হয়নি লাখ টন জ্বালানি

  • Update Time : Sunday, May 3, 2026
দেশের একমাত্র জ্বালানি তেলের সরকারি শোধনাগার চট্টগ্রামের পতেঙ্গাস্থ ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে গত ১৯ দিনে প্রায় ১ লাখ টন জ্বালানি পরিশোধন হয়নি। ফলে এ পরিমাণ জ্বালানি পরিশোধিত আকারে দেশের ভেতর ও বাইরের বিভিন্ন উৎস থেকে কিনে দেশের চাহিদা মেটাতে হয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনকে (বিপিসি)। এতে বাড়তি খরচ যেমনি হয়েছে, তেমনি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বিধানে বিপিসির সক্ষমতার অভাব নিয়েও প্রশ্ন ওঠেছে ঘনিষ্ঠ পর্যবেক্ষক মহলে।

গত প্রায় দেড় সপ্তাহ আগেই বিপিসির কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন বিপিসি পরিচালিত ইস্টার্ন রিফাইনারির জন্য তিনটি কনসাইনমেন্টে মোট প্রায় ৩ লাখ টন ক্রুড বা অপরিশোধিত জ্বালানি আমদানি প্রক্রিয়ায় পাইপলাইনে রয়েছে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এগুলো সময়মতো এসে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। ফলে ইস্টার্ন রিফাইনারির পরিশোধন ও উৎপাদন প্রক্রিয়া গত ১৪ এপ্রিল থেকে বন্ধ হয়ে যায়।

ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক মামুনুর রশিদ খান ইত্তেফাককে বলেন, সৌদি আরব থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল নিয়ে একটি জাহাজ ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছবে। আশা করা হচ্ছে আগামী ৭ মে থেকে ইস্টার্ন রিফাইনারির জ্বালানি পরিশোধন ও উৎপাদন প্রক্রিয়া পুরোদমে শুরু হয়ে যাবে। জাহাজটি বহির্নোঙরে পৌঁছার সঙ্গে সঙ্গেই লাইটারিং শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া আছে। তিনি জানান, ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি দৈনিক ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পরিশোধন করা হয়। যতটুকু ক্রুড ঠিক ততটুকুই বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি ও পেট্রোলিয়াম পণ্য এখানে উৎপাদন করা হয়। ১৬ ধরনের পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও ইস্টার্ন রিফাইনারি এলপিজি, পেট্রোল, ফার্নেস অয়েল, ডিজেল ও কেরোসিন এই শোধনাগারে উৎপাদন করে থাকে। এগুলোর মধ্যে এখানে ডিজেল উৎপাদনের পরিমাণ ৪৫ শতাংশ। জানা যায়, শিডিউল মোতাবেক ইস্টার্ন রিফাইনারির জন্য ক্রুড বা অপরিশোধিত জ্বালানির আমদানিকৃত সর্বশেষ চালানটি এসেছিল গত ১৮ ফেব্রুয়ারি। এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির উদ্ভব হলে প্রায় ২ মাস ক্রুডের চালান ব্যাহত হয়। ফলে মার্চে রিফাইনারিতে পরিশোধন প্রক্রিয়ায় ক্রুডের পরিমাণ ৪ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন থেকে ৩ হাজার ৫০০ মেট্রিক টনে নামিয়ে আনা হয়। কিন্তু ক্রুড শেষ হয়ে গেলে গত ১৪ এপ্রিল থেকে রিফাইনারি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, পাইপলাইনে থাকা মোট ৩ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড বা অপরিশোধিত জ্বালানি আসার পথে রয়েছে। যার মধ্যে সৌদি আরবের আরেমকো থেকে কেনা ১ লাখ টন ক্রুড অয়েল এপ্রিলের শেষে আসার কথা, যেটি মে মাসের প্রথম সপ্তাহে চট্টগ্রাম বন্দরে নিশ্চিত পৌঁছাবে। এরমধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় হরমুজ প্রণালির কাছে এতদিন বাংলাদেশের কেনা ১ লাখ টন ক্রুড নিয়ে আটকে থাকা জাহাজটি দেরিতে হলেও মে মাসের মাঝামাঝি নাগাদ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছে যাবে। সেই সঙ্গে আশা করা হচ্ছে আবুধাবির এডনক থেকে কেনা ১ লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসে নোঙর ফেলবে মে মাসের শেষ সপ্তাহে।

মধ্যপ্রাচ্যে গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষে যুদ্ধ পরিস্থিতির উদ্ভব হলে বিপিসি প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে। প্রায় ষাট বছর আগে পাকিস্তানি আমলে স্থাপিত বাংলাদেশের একমাত্র ইস্টার্ন রিফাইনারির বছরে উৎপাদন ক্ষমতা এখন মাত্র প্রায় ১৫ লাখ টন। পাশাপাশি বর্তমান মুহূর্তে দেশের পরিশোধিত জ্বালানির বার্ষিক চাহিদাই হচ্ছে ৭০ লাখ টনেরও বেশি। ফলে দেশের ৮০ শতাংশ জ্বালানির চাহিদা বিপিসিকে মেটাতে হচ্ছে আমদানির মাধ্যমে। অন্যদিকে দেশের জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন জোগানে বিপিসি অত্যধিক পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি নির্ভর হয়ে পড়েছে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন



প্রযুক্তি সহায়তায়: Star Web Host It