1. news@gmail.com : news :

আইএফআইসি ঋণ অনিয়মে প্রশ্নে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

  • Update Time : Tuesday, July 28, 2026

আইএফআইসি ব্যাংকে ভুয়া ও নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের নামে ১৪ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন ও ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নথির তথ্যের ভিত্তিতে অভিযোগ করা হয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাবের সময় কাগুজে প্রতিষ্ঠানের নামে বিপুল অঙ্কের ঋণ অনুমোদন, জামানত যাচাইয়ে অনিয়ম এবং ঋণের সীমা বারবার বৃদ্ধি করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা, পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে, দাবি করেন যে পরিদর্শনে অনিয়ম ধরা পড়লেও তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঋণগ্রহীতা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালকদের তথ্য অসম্পূর্ণ ছিল এবং কিছু ক্ষেত্রে জামানত হিসেবে প্রশ্নবিদ্ধ সম্পত্তি দেখানোর অভিযোগও উঠে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে কয়েকটি রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠানের নামে প্রায় ৯৪৮ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়। পরবর্তীতে সুদ-আসলে এ ঋণের পরিমাণ এক হাজার কোটিরও বেশি হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে ঋণের মেয়াদ, অনুমোদন প্রক্রিয়া ও জামানত ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন অসঙ্গতি উঠে আসে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত একাধিক প্রতিষ্ঠানের নামে শত শত কোটি টাকার খেলাপি ঋণ রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোই কার্যত নামসর্বস্ব বা দুর্বল আর্থিক সক্ষমতাসম্পন্ন হলেও সময়ে সময়েই তাদের ঋণের সীমা বাড়ানো হয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক অনিয়মের বিষয়ে নীরব ছিল—এ দাবি সঠিক নয়। তার ভাষ্য, যেখানে অনিয়ম পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, অর্থনীতিবিদ ড. মিজানুর রহমান অভিযোগ করেন, অতীতে ব্যাংক খাতের অনেক অনিয়মের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারেনি। তার মতে, অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আইএফআইসি ব্যাংকের তৎকালীন ও বর্তমান কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে রয়েছে। তবে এ বিষয়ে তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মনসুর মোস্তফার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

এদিকে, সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত সত্যতা সংশ্লিষ্ট তদন্ত ও আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন



প্রযুক্তি সহায়তায়: Star Web Host It