1. news@gmail.com : news :

দুই মাসেও পূর্ণাঙ্গ পর্ষদ নেই ইসলামী ব্যাংকে, গ্রাহকদের ক্ষোভ

  • Update Time : Monday, August 24, 2026

দুই মাসের বেশি সময় ধরে পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ ছাড়াই কার্যক্রম পরিচালনা করছে ইসলামী ব্যাংক। দ্রুত সৎ, যোগ্য, অভিজ্ঞ ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি স্বাধীন ও পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠনের দাবি জানিয়েছেন ব্যাংকটির গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডাররা।

সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে গ্রাহকদের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ সাত দফা দাবি তুলে ধরা হয়।

সংগঠনের আহ্বায়ক অধ্যাপক নুর নবী মানিকের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব মোতাছিম বিল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে ব্যাংকটির গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডাররা বক্তব্য দেন।

অধ্যাপক নুর নবী মানিক বলেন, পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ ছাড়া কোনো ব্যাংক দীর্ঘদিন চলতে পারে না। তাই অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে সৎ, যোগ্য, অভিজ্ঞ ও পেশাদার ব্যক্তিদের নিয়ে দ্রুত ইসলামী ব্যাংকের একটি স্বাধীন ও পূর্ণাঙ্গ পর্ষদ গঠন করতে হবে।

সমাবেশে ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা-সংক্রান্ত বিচারিক মামলায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও তোলা হয়। অধ্যাপক নুর নবী মানিক দাবি করেন, মামলাটি নিষ্পত্তির চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকা অবস্থায় ব্যাংকের আইনজীবী ব্যারিস্টার কাইয়ুমকে পরিবর্তন করে একজন জুনিয়র আইনজীবীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষের আইনজীবীকেও পরিবর্তন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এসব পরিবর্তনের মাধ্যমে এস আলম গ্রুপের পক্ষে রায় নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে বিচারের নামে কোনো ধরনের প্রহসনমূলক রায় সচেতন গ্রাহকেরা মেনে নেবেন না বলে হুঁশিয়ারি দেন।

সমাবেশ থেকে সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ ও পেশাদার পরিচালনা পর্ষদ গঠন, ২০১৭ সালে পরিবর্তিত মালিকানা প্রকৃত ও আদি মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং ব্যাংক লুটেরাদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন।

এ ছাড়া ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে এনে ব্যাংকের দায় পরিশোধ এবং এস আলমসহ ব্যাংক লুটেরাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে দেনা পরিশোধের দাবিও জানানো হয়।

ফোরামের নেতারা আরও দাবি করেন, ব্যাংক ও আর্থিক খাতে অনিয়মকারীদের পুনর্বাসনের সুযোগ বন্ধ করতে হবে এবং সংসদে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে দেওয়া অসত্য ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে।

তাদের ভাষ্য, ইসলামী ব্যাংক কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা পরিবারের সম্পদ নয়; এটি কোটি কোটি গ্রাহকের আমানত, আস্থা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রতিষ্ঠান। তাই গ্রাহকদের আমানতের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংককে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

ফোরামের নেতাদের অভিযোগ, গত দুই মাসে গ্রাহকদের আস্থা ফেরাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের দৃশ্যমান কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। বরং আমানতের নিরাপত্তার দাবিতে আন্দোলন করলে তাতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য খোঁজার চেষ্টা করা হচ্ছে। দ্রুত সাত দফা দাবি বাস্তবায়ন না হলে মহাসমাবেশসহ আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

গ্রাহকদের আন্দোলন ও বিভিন্ন মহলের সমালোচনার মুখে ইসলামী ব্যাংকের বিতর্কিত চেয়ারম্যানসহ পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার পর গত ১৫ জুন থেকে ব্যাংকটি পূর্ণাঙ্গ পর্ষদ ছাড়াই চলছে। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মোহাম্মদ জহির হোসেন চলতি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন।

দীর্ঘ সময়েও পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ গঠন না হওয়ায় ইসলামী ব্যাংকের সাধারণ গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন



প্রযুক্তি সহায়তায়: Star Web Host It