1. news@gmail.com : news :
শিরোনাম :
এক বছরের মধ্যে অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে ডিজিটাল অটোমেশনের আওতায় আনা হবে: অর্থমন্ত্রী ঈদের আগে ঢাকা লিগে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ রাউন্ড অগ্রণী ব্যাংকের ইসলামী ব্যাংকিং ইউনিট-এর শরীয়াহ সুপারভাইজরি কমিটির ৪৮তম সভা অনুষ্ঠিত ঈদের ছুটিতে এটিএম বুথে নগদ টাকা রাখতে ব্যাংকগুলোকে কড়া বার্তা কোরবানির আগে চাঙ্গা রেমিট্যান্স, ২০ দিনে এলো ৩২ হাজার কোটি টাকা সাউথইস্ট ব্যাংকের ৭ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশে বিএসইসির সম্মতি দরপতনের শীর্ষে এপেক্স স্পিনিং কমিউনিটি ব্যাংকের এসআইসিআইপি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কনটেইনার পাচার : দুই কর্মচারী গ্রেপ্তার প্রাণঘাতী ইবোলার টিকা আসতে সময় লাগতে পারে ৯ মাস : ডব্লিউএইচও

এক বছরের মধ্যে অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে ডিজিটাল অটোমেশনের আওতায় আনা হবে: অর্থমন্ত্রী

  • প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬

আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের পুরো অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে ডিজিটাল অটোমেশনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সঙ্গে ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান কার্ড’ চালুর মাধ্যমে সব নাগরিক সেবা এক প্ল্যাটফর্মে আনার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে দৈনিক প্রথম আলো আয়োজিত ‘সংকটকালের বাজেট ও জনপ্রত্যাশা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যবসা পরিচালনা, প্রকল্প বাস্তবায়ন ও নাগরিক সেবায় দীর্ঘদিনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমাতে সরকার বড় ধরনের সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। আগে যেখানে একটি ব্যবসা বা প্রকল্প বাস্তবায়নে অসংখ্য অনুমোদনের প্রয়োজন হতো, তা কমিয়ে মাত্র ১৩টিতে নামিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বন্দর থেকে পণ্য পরিবহন পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে অতিরিক্ত চার্জ ও প্রশাসনিক হয়রানি কমাতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সরকারি প্রকল্প গ্রহণের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিদিন মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হবে এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে।

তিনি আরও বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের পুরো অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা ডিজিটাল অটোমেশনের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান কার্ড’র মাধ্যমে সব নাগরিক সেবা নিশ্চিতের উদ্যোগ চলছে। প্রকল্প গ্রহণের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিদিন মনিটর করা হবে এবং নির্দিষ্ট টাইমফ্রেমের মধ্যে বাস্তবায়ন বাধ্যতামূলক করা হবে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানো নয়, বরং সাধারণ মানুষের জন্য একটি কল্যাণমুখী ও মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা। এ লক্ষ্যে অর্থনীতির গণতান্ত্রিকীকরণ এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থার আধুনিকায়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, অলিগার্কি বা কিছু লোকের নিয়ন্ত্রিত অর্থনীতি ও পৃষ্ঠপোষকতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে দেশের সাধারণ মানুষের জন্য একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র এবং মানবিক অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করতে সরকার সর্বাত্মক সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনীতিতে ডেমোক্রেটাইজেশন বা গণতান্ত্রিকীকরণ কেবল কোনো স্লোগান নয়, এটি বর্তমান সরকারের মূল দর্শন। যুগের পর যুগ ধরে বাজেটের বাইরে থাকা গ্রামীণ কামার-কুমার, তাঁতিসহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অর্থনীতির মূলধারায় নিয়ে আসতে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। ক্রিয়েটিভ ইকোনমির যেমন, থিয়েটার, কালচার, মিউজিক, পেইন্টিং ও আর্টিফিশিয়াল জুয়েলারি প্রসারে এবং একে মনিটাইজ করতে আগামী বাজেটে বিশেষ প্রজেক্ট ও ফান্ড বরাদ্দ রাখা হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ঢাকার পাশাপাশি বড় শহরগুলোতে ‘থিয়েটার ডিস্ট্রিক্ট’ গড়ে তোলা হবে। পার্শ্ববর্তী দেশের মতো বাংলাদেশের সংস্কৃতি, চলচ্চিত্র ও সংগীতকে বৈশ্বিক বাজারে ব্র্যান্ডিং ও প্ল্যাটফর্ম প্রদানের মাধ্যমে দেশের সফট পাওয়ার বাড়ানো হবে।

তিনি বলেন, উচ্চ সুদের ব্যাংক ঋণের বিকল্প হিসেবে ক্যাপিটাল মার্কেট (পুঁজিবাজার) ও বন্ড মার্কেটকে শক্তিশালী করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকার, ফান্ড ম্যানেজার এবং আইএফসি থেকে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। একটি নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি মূলধনী কোম্পানিগুলোর জন্য পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া বাধ্যতামূলক করা হবে। এছাড়াও সরকার দেশে এবং বিদেশে ‘বাংলাদেশ বন্ড’ ফ্লোট করার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে, যেখানে সুদের হার ৬ থেকে ৯ শতাংশের মধ্যে থাকবে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, কর ফাঁকি রোধে কোকাকোলা, পেপসি বা বহুজাতিক ও বড় তামাক কোম্পানিগুলোর প্রকৃত মার্কেট শেয়ার যাচাই করে ন্যায্য ট্যাক্স আদায় করা হবে। সাধারণ রেস্টুরেন্ট বা ক্ষুদ্র দোকানদারদের করের আওতায় আনতে এবং কর কর্মকর্তাদের হয়রানি থেকে বাঁচাতে বছরে একটি সহজ ‘ফ্ল্যাট রেট’ চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

কর নীতি প্রণয়নে আমূল পরিবর্তন আনা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে একটি বিল পাস করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে কেবল কর আদায়কারী নয়, বরং গ্লোবাল অর্থনীতি, স্থানীয় বাণিজ্য এবং হিউম্যান প্রফিটিবিলিটি বোঝেন এমন যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে পলিসি মেকিং বডি গঠন করা হবে।

অর্থমন্ত্রী দেশবাসীকে আগামী দুই বছর ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য শুধু জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়ানো নয়, বরং প্রবৃদ্ধির সুফল সাধারণ মানুষের জীবনে কতটুকু পরিবর্তন আনলো তা নিশ্চিত করা। প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা রয়েছে এবং আগামী ৬ মাসের মধ্যে আমরা সমস্ত ডিরেগুলেশন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে দিনরাত কাজ করছি। আগামী দুই বছরের মধ্যে বাংলাদেশ একটি প্রকৃত কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

শওকত হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, পিপিআরসির চেয়ারপার্সন, হোসেন জিল্লুর রহমান, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ‍্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) প্রফেসোরিয়াল ফেলো সেলিম জাহান, ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমান, এইচএসবিসি বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মাহবুব উর রহমান, পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়্যারম্যান মাসরুর রিয়াজ, টিকে গ্রুপের পরিচালক মোহাম্মদ মোস্তফা হায়দার, বিকেএমইএ’র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা, বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান প্রমুখ।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর


প্রযুক্তি সহায়তায়: Star Web Host It