1. news@gmail.com : news :

রাজধানীতে বিচ্ছিন্ন জনপদ কাউন্দিয়া, সেতুর অভাবে স্থবির ৩ লাখ মানুষের জীবন

  • প্রকাশ: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬

একটি সেতুর অভাবে রাজধানী থেকে বিচ্ছিন্ন প্রায় ৩ লাখ মানুষ। মিরপুর থেকে কাউন্দিয়া মাত্র ৫ মিনিটের দূরত্ব হলেও, যোগাযোগের এক মাত্র উপায় নৌকা। জরুরি প্রয়োজনে প্রতিদিনই নদী পাড়ি দিয়ে ঢাকায় আসতে হয় বাসিন্দাদের। প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) বলছে, কৃষি জমি সংক্রান্ত আইনি জটিলতায় আটকে আছে সেতুর কাজ। আর স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, রাজউকের এই শর্ত কাউন্দিয়ার জন্য প্রযোজ্য নয় দ্রুত আইন পরিবর্তনের তাগিদ তাদের।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বাসিন্দারা খেয়া পার হয়ে যার যার গন্তব্যের দিকে যাচ্ছেন। নৌকা পারাপারের এ দৃশ্য দেখে মনে হবে আধুনিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন কোনো এক জনপদ। অথচ রাজধানী ঢাকার-১৪ আসনের মিরপুরের অন্তর্গত এই জনপদের নাম কাউন্দিয়া। মিরপুর বেড়িবাঁধ থেকে মাত্র ৩ মিনিটের পথ হলেও যোগাযোগের একমাত্র উপায় ডিঙি নৌকা।

কাউন্দিয়া-বনগ্রাম ইউনিয়নের ২২ গ্রামে প্রায় ৩ লাখ লোকের বাস। ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা জরুরি কাজে প্রতিদিন ৫০-৬০ হাজার মানুষকে যেতে হয় ঢাকায়।

যোগাযোগের অভাবে কাউন্দিয়ায় গড়ে ওঠেনি হাসপাতাল কিংবা ভালো মানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ফলে স্বাস্থ্যসেবা আর লেখাপড়ার জন্য স্থানীয়দের নদী পাড়ি দিয়ে আসতে হয় ঢাকায়।
স্থানীয় এক নারী জানান, তার মেয়ে গর্ভবতী ছিলেন, রাত ৩টায় প্রসব ব্যথা উঠে, কিন্তু তিনি হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারেননি। এ সমস্যা বাসিন্দাদের কাছে নিত্য ঘটনা হলেও এতে মাতৃমৃত্যু ও শিশু মৃত্যুর হার বাড়িয়ে দিচ্ছে।
স্থানীয়রা বলছেন, এই নদী পথে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। বড় বড় বাল্কহেড আর ইঞ্জিনচালিত ট্রলারের ধাক্কায় ঘটছে মৃত্যুও।

নৌকায় নদী পার হচ্ছেন বাসিন্দারা। 

রাজউক বলছে, ২০১৫ সালের ড্যাপ নকশা অনুযায়ী এলাকাটি কৃষি জমির এরিয়াভুক্ত হওয়ায় সেতু নির্মাণের অনুমতি মিলছে না।

রাজউকের উপনগর পরিকল্পনাবিদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ড্যাপের নকশায় এগুলোকে কৃষি জমি হিসেবে দেখানো হয়েছে। যেহেতু জনস্বার্থ সবার আগে। ফলে আমাদের সিনিয়র অথোরেটির সঙ্গে আলোচনা করে জনস্বার্থের দিকটি বিবেচনা করা হবে।’

মহিলা আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্যরা বলছেন, কৃষি জমি সংক্রান্ত শর্ত কাউন্দিয়ার জন্য প্রযোজ্য নয়, ভোগান্তি লাঘবে আইন পরিবর্তনের দাবি তাদের।

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ বলেন, ‘আইন যেটাই হোক, জনগণের ঊর্ধ্বে কিছু না। আইন বাইবেলও না যে, এর পরিবর্তন করা যাবে না, জনস্বার্থে প্রয়োজনে আইনে পরিবর্তন আনা হবে।’

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, ‘পর্যবেক্ষণ যথা সময়ে শেষ হয়ে যাবে। রাজউক ও এলজিআরডিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মিটিং করে সমন্বয় করা হবে। এবং অতিদ্রুতই আমরা এখানে ব্রিজ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করতে পারবো।’

 

 

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

প্রযুক্তি সহায়তায়: Star Web Host It