অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ বিল আকারে জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে গত শুক্রবার (১০ এপ্রিল)। তবে নতুন সরকার ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ বিল পাসের আগে এতে নতুন এক ধারা যুক্ত করেছে। যার ফলে দুর্বল ও দেউলিয়া ব্যাংক পুনর্গঠন বা একীভূত করার লক্ষ্যে ব্যাংকের পুরোনো শেয়ারধারীদের ব্যাংকের মালিকানায় আসার সুযোগ মিলেছে। আগের মালিকরা সাত দশমিক ৫০ শতাংশ অর্থ দিয়ে ব্যাংকের মালিকানা ফিরে পেতে আবেদন করতে পারবে।
ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ বিলের ১৮(ক) ধারায় বলা হয়, আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইন কিংবা এ আইনের অন্যান্য বিধানে যা কিছু থাকুক না কেন, ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ ২০২৫-এর আওতায় তালিকাভুক্ত হওয়ার আগের শেয়ারধারক অথবা শেয়ারধারকেরা অথবা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে উপযুক্ত বিবেচিত ব্যক্তি ওই ব্যাংকের শেয়ার, সম্পদ-দায় পুনরায় ধারণ বা ধারণ করার জন্য রেজুলেশন কর্তৃপক্ষ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক বরাবর আবেদন করতে পারবেন। তবে শেয়ার পুনরায় ধারণের আবেদন করার ক্ষেত্রে পৃথক অঙ্গীকারনামা দিতে হবে। যেসব অঙ্গীকার করতে হবে, তার মধ্যে আছে–
ক. রেজুলেশনভুক্ত হওয়ার আগে বা পরে সরকার কিংবা বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া সব অর্থ পরিশোধ করে ব্যাংক পরিচালনায় ইচ্ছা প্রকাশ।
খ. বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত নতুন মূলধন জোগান ও বিদ্যমান মূলধন ঘাটতি পূরণের মাধ্যমে ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।
গ. সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক বা অন্য সরকারি, বিধিবদ্ধ সংস্থা বা আধা সরকারি উৎস থেকে দেওয়া ঋণ, ঋণের সুদ অথবা মুনাফা, ইকুইটি, গ্যারান্টি, সব ধরনের আর্থিক সহায়তা বা অন্যান্য সুবিধা সম্পূর্ণ ফেরত দেওয়া।
ঘ. একীভূত হওয়ার আগের আমানতকারী, অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক পাওনাদার এবং তৃতীয় পক্ষের বৈধ দাবি ও দায়সমূহ যথাযথভাবে নিষ্পত্তি করা হবে।
ঙ. সরকারের সব কর এবং কর বহির্ভূত রাজস্ব ও অন্যান্য আর্থিক দায় সম্পূর্ণরূপে পরিশোধ করা হবে।
এই ধারার উপধারা (৩) এ বলা হয়, আবেদন চূড়ান্তভাবে মঞ্জুরের তিন মাসের মধ্যে পূর্ববর্তী শেয়ার, সম্পদ-দায় পুনরায় ধারণ বা ধারণের বাস্তবিক দখল হস্তান্তরের আগে সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে যে পরিমাণ অর্থ জমা দেওয়া হয়, তার সাত দশমিক ৫০ শতাংশের পে-অর্ডার দিতে হবে। উপধারা (৪) অনুযায়ী, সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া বাকি ৯২ দশমিক ৫০ শতাংশ শেয়ার হস্তান্তরের দুই বছরের মধ্যে ১০ শতাংশ হারে সরল সুদসহ ফেরত দেবে। অধ্যাদেশের মূল কাঠামোর বড় অংশই বিলে পাস হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের রেজুলেশন কর্তৃত্ব, প্রশাসক নিয়োগ, মূলধন বৃদ্ধি, তৃতীয় পক্ষের কাছে সম্পদ ও দায় হস্তান্তর, ব্রিজ ব্যাংক, সরকারি সহায়তা, রেজুলেশন তহবিল, অবসায়ন ও দায়ী ব্যক্তি চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান।









