1. news@gmail.com : news :

পুতুলকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠালো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

  • Update Time : Saturday, July 12, 2025

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের (এসইএআরও) পরিচালক সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে গতকাল শুক্রবার (১১ জুলাই) থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) জালিয়াতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করার চার মাস পর এই ঘটনা ঘটল। আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিষয়ক সংস্থা হেলথ পলিসি ওয়াচের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক ডক্টর টেড্রোস আধানম ঘেব্রেইসাস একটি সংক্ষিপ্ত অভ্যন্তরীণ ই-মেইলের মাধ্যমে কর্মীদের জানিয়েছেন, ওয়াজেদ শুক্রবার থেকে ছুটিতে থাকবেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহকারী মহাপরিচালক ডক্টর ক্যাথারিনা বোহেম ওয়াজেদের স্থলাভিষিক্ত হবেন। টেড্রোস আরও জানান, বোহেম ১৫ জুলাই মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে সিয়ারো (এসইএআরও) অফিসে পৌঁছাবেন।

গত আগস্টে বিক্ষোভের পর দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা ওয়াজেদের বিরুদ্ধে আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগ পাওয়ার জন্য প্রচেষ্টার কারণে অভিযোগ উঠেছিল। ওয়াজেদ ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণ করেন, কিন্তু তার প্রচারণায় এই অভিযোগ আড়াল করে দেওয়া হয় যে, তার প্রভাবশালী মা তার মেয়ের নির্বাচন নিশ্চিত করতে নিজের প্রভাব ব্যবহার করেছিলেন। এই অভিযোগগুলোর তদন্ত জানুয়ারিতে শুরু হয়েছিল, যা পূর্বে হেলথ পলিসি ওয়াচ জানিয়েছিল।

দুদকের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ অনুযায়ী, ওয়াজেদের বিরুদ্ধে আঞ্চলিক পরিচালক পদে প্রচারণার সময় তার শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ আছে। এটি বাংলাদেশের দণ্ডবিধির ৪৬৮ ধারা (প্রতারণার উদ্দেশ্যে জালিয়াতি) ও ৪৭১ ধারা (একটি দলিল জালিয়াতি) লঙ্ঘন করে।

দুদক আরও অভিযোগ করেছে, পুতুল তার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পদ নিশ্চিত করার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্মানসূচক পদ দাবি করে তার যোগ্যতার ভুল তথ্য দিয়েছেন, যা বিতর্কিত বলে জানিয়েছে। দুদকের উপ-পরিচালক আখতারুল ইসলাম অভিযোগগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন।

ওয়াজেদের বিরুদ্ধে সূচনা ফাউন্ডেশনের জন্য বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রায় ২ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলার (২৮ লাখ মার্কিন ডলার) সংগ্রহের জন্য তার ক্ষমতা ও প্রভাবের অপব্যবহার করার অভিযোগও আছে। তিনি এর আগে এই ফাউন্ডেশনের প্রধান ছিলেন। দুদকের মামলায় তখন অর্থ কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল তার সম্পূর্ণ বিবরণ দেওয়া হয়নি।

এই অভিযোগগুলোর মধ্যে আছে : ৪২০ ধারা (প্রতারণা এবং অসৎভাবে সম্পত্তি হস্তান্তর প্ররোচনা) এর অধীনে জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা।

অভিযোগ ওঠার পর থেকে ওয়াজেদ বাংলাদেশে গ্রেপ্তারের মুখোমুখি হওয়ায় তিনি সিয়ারো (এসইএআরও) অঞ্চলে সঠিকভাবে ভ্রমণ করতে পারছেন না।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন



প্রযুক্তি সহায়তায়: Star Web Host It