একেকটি খাবার যেন একেকটি গল্প, একেকটি স্বাদে মিশে আছে শৈশবের স্মৃতি, আর প্রতিটি ঐতিহ্যবাহী পদে লুকিয়ে আছে বাংলার মাটি ও মানুষের আত্মপরিচয়। বাংলাদেশের সমৃদ্ধ খাদ্য সংস্কৃতি, আঞ্চলিক বৈচিত্র্য এবং হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী খাবারকে নতুন করে তুলে ধরতে ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট আয়োজন করেছে ‘দা লোকাল কালিনারী হেরিটেজ অব বাংলাদেশ ২০২৬’।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের গ্র্যান্ডি সামিট– ২, লেভেল ৬-এ অনুষ্ঠানটির উদ্বোধনী আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্পেশাল গেস্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কাউন্সিল (বিটিটিসি)-এর সভাপতি ও বাংলাদেশ মনিটর-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং সম্পাদক কাজী ওয়াহিদুল আলম।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান সিদ্দিকী, সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের পরিচালক মাহমুদ হাসান, জনসংযোগ ও যোগাযোগ বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক দেওয়ান ফারহানা মাসুক ইরা, বিশিষ্ট অতিথিরা এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী খাবার, প্রাচীন রান্নার পদ্ধতি এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বয়ে চলা স্বাদের ঐতিহ্যকে অতিথিদের সামনে উপস্থাপন করা। গ্রাম-বাংলার চিরচেনা ঘ্রাণ, দাদী-নানীর হাতের রান্নার স্মৃতি আর মাটির কাছাকাছি থাকা, বাঙালির চিরন্তন খাদ্য সংস্কৃতি সবকিছু মিলিয়ে এই উৎসব হয়ে উঠবে শেকড়ের কাছে ফিরে যাওয়ার এক অনন্য রসনাযাত্রা।
উৎসবে থাকছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী খাবারের সমাহার। পুরান ঢাকার বাখরখানি, চট্টগ্রামের মেজবানি মাংস ও কালাভুনা, সিলেটের সাতকড়া মাংস, খুলনার চুইঝাল, কক্সবাজারের লইট্টা ভাজি এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের কালাইয়ের রুটিসহ নানা আঞ্চলিক পদে অতিথিরা খুঁজে পাবেন বাংলাদেশের বৈচিত্র্যময় স্বাদের পরিচয়। পাশাপাশি থাকছে হরেক রকমের ভর্তা, ঐতিহ্যবাহী সবজি ও মুখরোচক দেশীয় খাবার।
মিষ্টিমুখের আয়োজনেও থাকছে বাংলার নিজস্ব ঐতিহ্যের ছোঁয়া। নাটোরের কাঁচাগোল্লা, নেত্রকোনার বালিশ মিষ্টি, বগুড়ার দই, টাঙ্গাইলের পোড়াবাড়ির চমচম, কুমিল্লার রসমালাই, মেহেরপুরের রসকদম্বসহ বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি ও পিঠা। প্রতিটি পদ যেন অতিথিদের ফিরিয়ে নিয়ে যাবে বাংলার চিরচেনা উৎসব, পারিবারিক মিলনমেলা আর শৈশবের মধুর স্মৃতিতে।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা রিজেন্সি হোটেল কর্তৃপক্ষ বলেন, আমাদের লক্ষ্য শুধু একটি খাবার উৎসব আয়োজন করা নয়, বরং বাংলাদেশের সমৃদ্ধ খাদ্য, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরিচিত করে তোলা। আমরা চাই, দেশি-বিদেশি অতিথিরা বাংলাদেশের আঞ্চলিক খাবারের বৈচিত্র্য, স্বাদ ও ঐতিহ্যকে নতুনভাবে আবিষ্কার করুন।
গ্র্যান্ডিওস রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এই বিশেষ বুফে ডিনারের মূল্য জনপ্রতি পাঁচ হাজার ৯৯৯ টাকা নেট। নির্বাচিত ব্যাংক কার্ডধারীদের জন্য থাকছে স্পেশাল বাই ওয়ান গেট ফোর পর্যন্ত অফার। এ ছাড়া ঢাকা রিজেন্সি প্রিমিয়ার ক্লাবের সদস্যদের জন্য থাকছে বিশেষ সুবিধা এবং দলবদ্ধ অতিথিদের জন্য আকর্ষণীয় ছাড়।
এই বিশেষ আয়োজন চলবে ১৪ থেকে ২৪ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত। পরিবার, বন্ধু কিংবা প্রিয়জনদের সঙ্গে দেশীয় খাবারের স্বাদে সময় কাটাতে অতিথিদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছে ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট।









Leave a Reply