বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত দ্রুত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। প্রযুক্তির অগ্রগতি, গ্রাহকদের পরিবর্তিত প্রত্যাশা এবং জলবায়ুজনিত ঝুঁকির কারণে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম ও সেবা প্রদানের ধরনেও পরিবর্তন আসছে।
এ পরিস্থিতিতে ব্যাংকিং খাতে সুশাসন, জনসাধারণের আস্থা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও সাইবার নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সিটি ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাশরুর আরেফিন।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) আয়োজিত বার্ষিক ব্যাংকিং সম্মেলন (এবিসি) ২০২৬-এর অংশগ্রহণকারীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।
মাশরুর আরেফিন বলেন, বিআইবিএমের এই সম্মেলন ব্যাংকার, নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ, গবেষক ও আর্থিক খাতের বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতবিনিময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ, সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি বিনিময়ে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন খুব দ্রুত ঘটছে। একই সঙ্গে গ্রাহকদের সেবার প্রত্যাশায় পরিবর্তন এসেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিভিন্ন ঝুঁকি। ফলে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও তাদের কার্যক্রম, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং গ্রাহকসেবা নতুন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হচ্ছে।
এ অবস্থায় একটি স্থিতিশীল ও ভবিষ্যৎ উপযোগী ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কয়েকটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে সুশাসন জোরদার করা, ব্যাংকিং খাতের প্রতি জনসাধারণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, কার্যকর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং সাইবার নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা। পাশাপাশি দায়িত্বশীলভাবে ডিজিটাল উদ্ভাবনকে এগিয়ে নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
মাশরুর আরেফিন বলেন, ‘সিটি ব্যাংকে আমরা বিশ্বাস করি, ব্যাংকিংয়ের ভবিষ্যৎ পরিচালিত হওয়া উচিত সততা, উদ্ভাবন ও অন্তর্ভুক্তির ভিত্তিতে।’
তিনি আরও বলেন, টেকসই অর্থায়ন সম্প্রসারণ, আর্থিক সেবার আওতা বাড়ানো এবং বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে সহায়তা করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তি খাতের অংশীদারদের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা প্রয়োজন।
তার মতে, ব্যাংকিং খাতের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শুধু প্রযুক্তিনির্ভরতা বাড়ানোই যথেষ্ট নয়; এর সঙ্গে সুশাসন, নিরাপত্তা, দায়িত্বশীল উদ্ভাবন ও গ্রাহকের আস্থার বিষয়গুলোও সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে।
এবিসি ২০২৬ সম্মেলনে উপস্থাপিত বিভিন্ন গবেষণা, আলোচনা ও মতবিনিময় থেকে ব্যাংকিং খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ধারণা ও দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন সিটি ব্যাংকের এমডি। তার প্রত্যাশা, এসব আলোচনা বাংলাদেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার উপযোগী করতে ভূমিকা রাখবে।
প্রযুক্তি সহায়তায়: Star Web Host It
Leave a Reply