1. news@gmail.com : news :

শেয়ারবাজারের দুই কোম্পানির বিরুদ্ধে বিএসইসির তদন্ত

  • Update Time : Sunday, November 8, 2026

শেয়ারবাজারের এসএমই বোর্ডে তালিকাভুক্ত দুই কোম্পানির বিরুদ্ধে সংগৃহীত অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। এই ঘটনায় তদন্তে নেমেছে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। তদন্তের আওতায় আসা কোম্পানি দুটি হলো ওয়েব কোটস পিএলসি ও কৃষিবিদ সিড লিমিটেড। যোগ্য বিনিয়োগকারী প্রস্তাব বা কিউআইও প্রক্রিয়ায় প্রতিষ্ঠান দুটি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে মোট ১৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা সংগ্রহ করেছিল। এর মধ্যে কৃষিবিদ সিডের সংগৃহীত অর্থ ১১ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং ওয়েব কোটসের ৫ কোটি টাকা।

কিউআইওর মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের সময় কোম্পানি দুটি ব্যবসা সম্প্রসারণ, চলতি মূলধনের চাহিদা পূরণ, ঋণ পরিশোধ এবং নতুন যন্ত্রপাতি কেনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল। কিন্তু বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ ঘোষিত উদ্দেশ্য অনুযায়ী ব্যয় করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ অবস্থায় গত ২ নভেম্বর পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিএসইসি।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, কৃষিবিদ সিডের অর্থ ব্যবহারের বিষয়টি তদন্ত করবেন বিএসইসির উপপরিচালক মওদুদ মোমেন ও সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ রুমান হোসেন। অন্যদিকে ওয়েব কোটসের তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন যুগ্ম পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম এবং সহকারী পরিচালক ফারহানা ওয়ালেজা।

বিএসইসির তদন্ত আদেশে বলা হয়েছে, কিউআইওর মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থ যে উদ্দেশ্য উল্লেখ করে সংগ্রহ করা হয়েছিল, বাস্তবে তা সংশ্লিষ্ট খাতেই ব্যয় হয়েছে কি না, তা বিস্তারিতভাবে যাচাই করতে হবে। এই জন্য কোম্পানি দুটির দাখিল করা আর্থিক বিবরণী ও অন্যান্য নথিপত্র পরীক্ষা করা হবে। পাশাপাশি অর্থায়নের আওতায় নেওয়া প্রকল্প, কেনা সম্পদ এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন তদন্ত কর্মকর্তারা।

তদন্তের অংশ হিসেবে অর্থ লেনদেনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পরিচয় শনাক্ত করা হবে। একই সঙ্গে কোম্পানি দুটির ব্যাংক হিসাবের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে অর্থের প্রবাহ এবং ব্যয়ের প্রকৃত খাত সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করা হবে।

অর্থ ব্যবহারে কোনো ধরনের অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দায়দায়িত্বও নির্ধারণ করা হবে। বিশেষ করে সিকিউরিটিজ আইন, সংশ্লিষ্ট বিধিমালা এবং বিএসইসির নির্দেশনা লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, তা চিহ্নিত করতে বলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোম্পানি দুটির পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও), কোম্পানি সচিব এবং নিরীক্ষকদের ভূমিকা পর্যালোচনা করবে তদন্ত কমিটি।

শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কৃষিবিদ সিড ২০২২ সালে এবং ওয়েব কোটস ২০২৪ সালে এসএমই বোর্ডে তালিকাভুক্ত হয়। তালিকাভুক্তির অনুমোদন পাওয়ার আগে কোম্পানি দুটি কিউআইওর মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থ কোন কোন খাতে এবং কী পরিমাণে ব্যয় করবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা বিএসইসির কাছে জমা দিয়েছিল। এখন সেই ঘোষিত পরিকল্পনার সঙ্গে বাস্তব ব্যয়ের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, সেটিই তদন্তের অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন

প্রযুক্তি সহায়তায়: Star Web Host It