চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট সার্বিকভাবে ব্যবসাবান্ধব হয়েছে। তবে বাজেটে যে বড় অঙ্কের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, তা আদায় হওয়াটাই বড় চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজিএমইএ)।
সোমবার (৬ জুলাই) নতুন অর্থবছরের বাজেট নিয়ে বিপিজিএমইএর কার্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এমন মন্তব্য করেন সংগঠনটির সভাপতি শামিম আহমেদ।
তিনি বলেন, বাজেটে ব্যবসায়ীদের অনেক দাবিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এটা ইতিবাচক। নতুন অর্থবছরের বাজেট পাসের আগে কিছু প্রস্তাব সংশোধন করা হয়ছে, কিছু প্রস্তাব প্রত্যাহার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে বাজেটটি ব্যবসাবান্ধব, বিনিয়োগবান্ধব, কর্মসংস্থানমুখী ও শিল্পোন্নয়ন সহায়ক হয়েছে। তবে, বাজেটে যে বিশাল রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা সেটি আদায় করাই বড় চ্যালেঞ্জ হবে। গত বছরও লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়নি। এবারও হবে কি না শঙ্কা আছে। ব্যবসায়ীদের কাছে এটাই এখন বড় আতঙ্ক। কারণ এই রাজস্ব আদায় করতে আমাদের ওপর চাপ আসতে পারে। এ ছাড়া করের টাকা কোথায় কীভাবে খরচ হচ্ছে, সে ব্যপারেও স্বচ্ছতা থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
বাজেট ও প্লাস্টিক খাত নিয়ে বিপিজিএমইএ সভাপতি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে প্লাস্টিক খাতের গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল পিইটি রেজিন ও পিভিসি আমদানিতে আমদানি শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এটি আগের মতো ৫ শতাংশ বহাল করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তে আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
তিনি আরও বলেন, প্লাস্টিক শিল্পের মৌলিক কাঁচামাল আমদানিতে ইনভয়েস মূল্যের ভিত্তিতে শুল্কায়নের বিষয়ে শুল্ক স্টেশনসমূহে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদানের উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই এবং এর দ্রুত বাস্তবায়ন প্রত্যাশা করি। আমদানিকৃত পণ্যের কেমিক্যাল টেস্ট সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সহজীকরণের ফলে ব্যবসা পরিচালনায় গতি বৃদ্ধি পাবে, যা শিল্পখাতের জন্য ইতিবাচক। রিসাইক্লিং পণ্যের ওপর বিদ্যমান ভ্যাট অব্যাহতি বহাল রাখা এবং রিসাইক্লিংয়ের জন্য ওয়েস্ট সরবরাহের ক্ষেত্রে উৎসে কর ৩ শতাংশ থেকে ১ শতাংশ নির্ধারণ পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নে সহায়ক হবে।
শিল্প উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল ও প্যাকিং ম্যাটেরিয়াল সরবরাহের ক্ষেত্রে উৎসে করের যৌক্তিকীকরণ এবং রপ্তানি প্রণোদনা হতে উৎসে কর কর্তনের হার ১০ শতাংশের পরিবর্তে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন তিনি।
তবে, নীতিনির্ধারণ নিয়ে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘পলিসি মেকারদের’ বোঝানোই যাচ্ছে না যে, এই (প্লাস্টিক) শিল্প এখন আর শুধুমাত্র ব্যবহার্য পণ্য সামগ্রীতে সীমাবদ্ধ নেই, এটা অনেকগুলো খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সে অনুযায়ী নীতি প্রণয়ন প্রয়োজন।
রপ্তানি প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, রপ্তানিতে পোশাক খাতকে যেসব সুবিধা দেওয়া হচ্ছে সেটা অন্যসব খাতের ক্ষেত্রেও দেওয়া দরকার। রপ্তানি বহুমুখীকরণের কথা বলা হচ্ছে, সে জন্যও এটি দরকার।
তিনি আরও বলেন, খেলনা খাতে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে রপ্তানি বাড়ানো সম্ভব। কিন্তু সে জন্য দীর্ঘদিন ধরে আমরা খেলনা তৈরির ২৪টি কম্পোনেন্ট আমদানিতে শুল্ক ছাড় চাচ্ছি। ১২টিতে দেওয়া হলেও বাকিগুলোতে পাচ্ছি না। নীতিনির্ধারকদের বোঝানো যাচ্ছে না খেলনাগুলো এখন আর শুধু প্লাস্টিক নয়, এখানে প্রযুক্তির অনেক ব্যবহার রয়েছে। সেভাবেই এটাকে বিবেচনা করতে হবে।
করমুক্ত আয়সীমা নিয়ে শামিম আহমেদ বলেন, এটিকে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করা হয়েছে। কিন্তু আমি মনে করি এটি আরও বাড়ানো প্রয়োজন ছিল। এছাড়া বাজেটে দক্ষতা বাড়ানোতে আরও বিনিয়োগ আশা করেছিলাম। আমাদের জনসংখ্যাকে কাজে লাগাতে হলে দক্ষতা বাড়াতেই হবে। এর বিকল্প নেই।
বিপিজিএমইএ’র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট কে এম ইকবাল হোসেন বলেন, আমরা বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান নিয়ে কথা বলছি। কিন্তু আমাদের বড় সমস্যা বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে। রাজধানীর বাইরে বিদ্যুৎ সমস্যা আরও বেশি। বাজেটে বরাদ্দ আছে, কিন্তু এর বাস্তবায়ন ও ব্যবস্থাপনায় চরম অব্যবস্থাপনা দেখা যায়। এটাকে ঠিক করতে হবে আগে। পদে পদে যে অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি, স্বচ্ছতার ঘাটতি, জবাবদিহির অভাব, সুশাসনের ঘাটতি দেখা যায় সেগুলো দুর করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিসিক শিল্পনগরিতে একজন উদ্যোক্তার যে হারে খরচ করতে হচ্ছে, তাতে নতুন উদ্যোক্তারা আগ্রহই হারিয়ে ফেলছে। অপরদিকে এনবিআরকে দুই ভাগে বিভক্ত করার যে যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, সেটিও হলো না। এসব জায়গায় আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে।
প্রযুক্তি সহায়তায়: Star Web Host It
Leave a Reply