1. news@gmail.com : news :
শিরোনাম :

আয়কর নির্ধারণে অ্যাসাইকুডা সিস্টেমের তথ্য ব্যবহার বাধ্যতামূলক

  • প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬
একই সময়ে শুল্ক আদায় হয়েছে ৭৪ হাজার ২৫৫ কোটি টাকা। যা লক্ষ্যমাত্রা থেকে ১৬ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা কম। এ খাতে প্রবৃদ্ধি ০.৩৮ শতাংশ। অন্যদিকে আয়কর আদায় হয়েছে ৮৬ হাজার ৯২০ কোটি টাকা। যা লক্ষ্যমাত্রা থেকে ২৯ হাজার ৭৫৫ কোটি টাকা কম। আর প্রবৃদ্ধি ৫.৬৭ শতাংশ। এনবিআর সূত্র বলছে, কেবল মার্চে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪২ হাজার ৯৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। বিপরীতে আদায় হয়েছে ৩৪ হাজার ৬৬৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। ঘাটতি ৭ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা। লক্ষ্যের তুলনায় ঘাটতি থাকলেও এ সময় রাজস্ব আহরণে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। রাজস্ব আহরণে প্রবৃদ্ধি ৯.৬৪ শতাংশ। এ বিষয়ে এনবিআরের সদস্য (ভ্যাট বাস্তবায়ন ও আইটি) মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী ঢাকা পোস্টকে বলেন, রোজার ঈদের ছুটিতে একটা বড় সময় চলে গেছে। তখন রাজস্ব আদায় বন্ধ ছিল। এছাড়া বিপিসির দেওয়া ৫ হাজার কোটি টাকাও মার্চের হিসাবে আসেনি। কারখানা স্থানান্তর জটিলতার কারণে ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকো থেকেও দেড় হাজার কোটি টাকা কম আয় হয়েছে। আশা করছি এপ্রিলে রাজস্ব আদায় বাড়বে। চলতি অর্থবছরে এনবিআরকে লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছিল ৪ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা। তবে অর্থবছরের মাঝপথে এসে লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৫০০ কোটি করা হয়।

আয়কর নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং কর ফাঁকি রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এখন থেকে করদাতাদের আমদানিকৃত পণ্যের প্রকৃত মূল্য এবং আমদানি পর্যায়ে পরিশোধিত অগ্রিম আয়করের তথ্য যাচাই করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এজন্য কাস্টমসের ‘অ্যাসাইকুডা সিস্টেমের’ বিজনেস ইন্টেলিজেন্স (বিআই) সার্ভারের তথ্য ব্যবহার করতে হবে।

বৃহস্পতিবার এনবিআরের আয়কর অনুবিভাগের অধীনস্থ কর অঞ্চলগুলোর জন্য এই আদেশ জারি করা হয়েছে।

আদেশে আয়কর কর্মকর্তাদের জন্য অ্যাসাইকুডা সিস্টেমের বিজনেস ইন্টেলিজেন্স সার্ভার ব্যবহারের বিস্তারিত পদ্ধতিও উল্লেখ করা হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, কর মামলা অডিটের জন্য নির্বাচন, আয়কর আইন অনুযায়ী কর মামলা পুনঃউন্মোচনের অনুমোদন প্রদান কিংবা ত্রুটিপূর্ণ করাদেশ সংশোধনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পরিদর্শী রেঞ্জ কর্মকর্তারা এই সার্ভার থেকে তথ্য সংগ্রহ করবেন। করদাতা আমদানিকারক হলে তার আমদানিকৃত পণ্যের মূল্য এবং আমদানি পর্যায়ে পরিশোধিত অগ্রিম আয়করের প্রকৃত তথ্য সংগ্রহ করে তা লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট সার্কেল কর্মকর্তাকে জানাতে হবে।

বর্তমানে কর কমিশনার এবং পরিদর্শী রেঞ্জ কর্মকর্তারা নির্ধারিত কম্পিউটার থেকে এই সার্ভারে লগইন করতে পারবেন। প্রাথমিক পর্যায়ে কর নির্ধারণী কর্মকর্তাদের সরাসরি এই সুযোগ না দিয়ে রেঞ্জ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সংগৃহীত তথ্য নির্দিষ্ট রেজিস্টারে নিয়মিত লিপিবদ্ধ রাখতে হবে।

এনবিআর মনে করছে, এই উদ্যোগের ফলে আয়কর মামলা নিষ্পত্তির সময় করদাতার আমদানিকৃত পণ্যের পরিমাণ, মূল্য এবং অগ্রিম আয়করের প্রকৃত তথ্য সহজেই যাচাই করা সম্ভব হবে। এতে স্বচ্ছ ও নির্ভুল প্রক্রিয়ায় অগ্রিম আয়কর ‘ক্রেডিট’ দেওয়া যাবে। একই সঙ্গে কর ফাঁকি রোধের মাধ্যমে রাজস্ব আদায় বাড়বে এবং আয়কর ফেরত (রিফান্ড) প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত হবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে কাস্টমস ও আয়কর বিভাগের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের একটি নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। এই কার্যক্রম সফল হলে কর নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে এবং ব্যবসায়ীদের অপ্রয়োজনীয় হয়রানি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর


প্রযুক্তি সহায়তায়: Star Web Host It